Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল এগিয়ে

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল এগিয়ে
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?

দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির পদে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান–কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে এ সাংবিধানিক পদের জন্য শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

সূত্র বলছে, আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ নেবেন। একই দিনে বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই মন্ত্রিসভার শপথ পাঠ করান, ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্ম নেয়া এ নেতা ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন।

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এ নেতা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিচিতি পান।

রাষ্ট্রপতির পদে আলোচনায় আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান–এর নামও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর নামও আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনায় থাকা রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, তিন প্রবীণ নেতা এবং একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত বিবেচনায় রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় সংবিধানসম্মত ধাপ অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সে কারণে গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময় মেনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নজর মঙ্গলবারের দিকে—কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, সেটিই হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের প্রথম বড় ঘোষণা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

শপথ নিলেন জামায়াতের এমপিরা, পাল্টালেন সিদ্ধান্ত
জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করলো বিএনপি: সারজিস
বিএনপির অবস্থানের কারণে শপথই নেবে না ১১ দলীয় জোট: আসিফ
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত তারেক রহমান
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে জামায়াত কোনও শপথই নেবে না: হুঁশিয়ারি তাহেরের
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে আজ যাচ্ছে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা
ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলো গণঅভ্যুত্থানের নেতারা: মির্জা ফখরুল
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন আজ
তারেক রহমানের স্বপ্নযাত্রায় নতুন বাংলাদেশ
হাসিনা ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক থামবে না: দ্য হিন্দুকে মির্জা ফখরুল
কারওয়ান বাজারের আগুন দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
জিইউকে মাদকাসক্ত কেন্দ্রে যুবককে অমানবিক নির্যাতন
ধামইরহাটে খাসির নামে কুকুরের মাংস বিক্রির কসাই আটক
স্বপ্নের যাত্রার সূচনা, প্রস্তুত সংসদ
জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নয়: জামায়াত আমির
নোট অব ডিসেন্টের সিদ্ধান্ত গণভোটেই চূড়ান্ত: নাহিদ ইসলাম
জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ বিদায়ী ভাষণ
চিঠি দিয়ে ক্ষমা চেয়ে মহিমান্বিত হলেন উপদেষ্টা