লাশবিহীন এক ঐতিহাসিক নির্বাচন, এখন সবার চোখ ভোট গণনায়
বাংলাদেশের নির্বাচন মানেই দীর্ঘদিন ধরে ছিলো সহিংসতার আশঙ্কা, সংঘর্ষ, রক্তপাত এবং প্রাণহানির শঙ্কা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন—প্রায় প্রতিটি ভোটকে ঘিরেই কোথাও না কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, ঝরেছে প্রাণ। সে প্রেক্ষাপটে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এক ভিন্ন বাস্তবতার জন্ম দিলো।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ঘিরে শুরুতে নানা শঙ্কা থাকলেও দিনশেষে বড় ধরনের কোনও সহিংসতা বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও সংঘর্ষ, উত্তেজনা কিংবা বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থাকলেও সারা দেশে একটি লাশবিহীন নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, সেনাবাহিনীর মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান মিলিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ভোটারদের অনেকেই কেন্দ্রগুলোতে তুলনামূলক স্বস্তির পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিতর্কিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর এমন একটি শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশংসার দাবিদার—এমন মতও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
তবে নির্বাচন শেষ মানেই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নয়। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ভোট গণনা। প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে গণনার ফলাফলে। দেশবাসী তাকিয়ে আছে—নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে, কে পাবে জনগণের আস্থা, আর কোন রাজনৈতিক শক্তি গড়বে পরবর্তী সরকার।
শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পর এখন প্রত্যাশা একটাই—স্বচ্ছ, নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য ফলাফল। কারণ গণতন্ত্রের আসল শক্তি শুধু ভোটে নয়, সে ভোটের সঠিক প্রতিফলনে।
সবার দেশ/কেএম




























