Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:১৪, ২৭ মে ২০২৬

আপডেট: ০৭:১৭, ২৭ মে ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তে শত শত মানুষের ভিড়

শুভেন্দু বললেন ‘জলদি ভাগো’

শুভেন্দু বললেন ‘জলদি ভাগো’
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের পর সীমান্ত এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনা জারির পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় শত শত নারী-পুরুষ বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে জড়ো হন।

ভারতের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরব ছিলো বিজেপি। নির্বাচনে সরকার গঠনের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, এদের অবিলম্বে চলে যাওয়া উচিত। ওই দেশের মুখপাত্র তো নিজেই বলেছিলেন তারা বাংলাদেশিদের ফেরত নেবেন। তাই বলছি— জলদি জলদি ভাগো, না হলে এ সরকার আইন অনুযায়ী যা করার ঠিক তা-ই করবে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বছরের পর বছর জেলে রেখে রাজ্যের সম্পদ নষ্ট করার কোনও যৌক্তিকতা নেই। আমাদের চাল, ডাল, তেল, মাছ, ডিম, কাপড়, ওষুধ কেনো তাদের পেছনে ব্যয় হবে? এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ ভারতীয় নাগরিকরাই, মন্তব্য করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে পুলিশ সরাসরি সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। এরপর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী তাদের নাগরিকত্ব যাচাই করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আটককৃত বিদেশি নাগরিকদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ ‘ডিটেক্টেড ডিফল্ট হোল্ডিং সেন্টার’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নির্দেশ জারির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মালদার ইংরেজবাজারে প্রথম হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হয়। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদেও একই ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত এগোচ্ছে।

প্রশাসনের এ কঠোর অবস্থানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সীমান্ত এলাকাগুলোতে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার বিথারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাকিমপুর চেকপোস্টে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় সূত্র বলছে, তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছিলেন।

সীমান্তে অপেক্ষমাণ কয়েকজন জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পুলিশের তৎপরতার কারণে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গ্রেফতার ও আইনি জটিলতার মুখে পড়ার আগেই তারা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হঠাৎ সীমান্ত এলাকায় শত শত মানুষের এ সমাগম স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের মাঝেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, সেদিকেও এখন কড়া নজর রাখছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ
রাস্তায় কোরবানির বর্জ্য দেখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
জিয়াউর রহমান: জাতীয় পুনর্জাগরণের রূপকার
চামড়া পাচার ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার
পানির দামে চামড়া, ক্রেতা সংকটে রাস্তা-নদীর পাড়ে স্তূপ
ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলা ববি হাজ্জাজ তোপের মুখে, বক্তব্য প্রত্যাহার
পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে গিয়ে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জে ভারত
প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে বিচারপতি রেজাউল হক
ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত
আমেরিকার জরুরি তেলের ভান্ডার দ্রুত খালি করছেন ট্রাম্প
ঈদেও ভাঙলো না চামড়াবাজারের অচলাবস্থা
ভাইরাল সেই মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ যাচ্ছে মিরপুর চিড়িয়াখানায়