বাংলাদেশসীমান্তে বেড়ার জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তর শুভেন্দুর
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বড় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষায় সহায়তার অংশ হিসেবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে প্রাথমিকভাবে ২৭ কিলোমিটার এলাকার জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি চাওয়া হলেও আগের প্রশাসন তা দেয়নি। বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হলো বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ভারত ও বাংলাদেশ–এর মধ্যে মোট সীমান্তের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও এখনও কয়েকশ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারি সূত্রে বলা হয়, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো রাজ্যের ভূমি ও রাজস্ব বিভাগকে। সে নির্দেশের অংশ হিসেবেই প্রথম ধাপে ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফকে দেয়া হয়েছে।
বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)–এর মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি নতুন সীমান্ত চৌকি স্থাপন ও নজরদারি জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন হলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সীমান্ত অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হবে।
তিনি দাবি করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)–এর আওতায় নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে যারা অবস্থান করছেন, তারা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ইস্যুতে এই ধরনের কঠোর অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























