নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি
প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব যুক্ত হওয়ায় দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৯ জনে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৯৩ জন।
নেপালের অভ্যন্তরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৪ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র এক দিন আগেও এ সংখ্যা ছিলো প্রায় ২ হাজার ৫০০। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে নিখোঁজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হয়ে পড়েন।
সুড়ঙ্গে আটকা ৯ শতাধিক শ্রমিক
দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন নির্মাণাধীন ও চলমান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ৯০০-এর বেশি শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এসব শ্রমিকের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত উদ্ধারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের কাছে বর্তমানে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারই অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তবে বন্যা, ভূমিধস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
চীন সীমান্তেও নতুন শঙ্কা
নেপালের পাশাপাশি চীনের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগকবলিত জিরং বন্দরে অন্তত আটটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ পয়েন্ট শনাক্ত করেছে চীন। এসব এলাকায় কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে।
বেইজিং প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। অতিবৃষ্টির কারণে পার্শ্ববর্তী কৃত্রিম বা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বাধ হ্রদগুলোর পানির স্তর আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানির স্তর বাড়লে এসব হ্রদ থেকে হঠাৎ পানি নেমে নতুন করে বন্যা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে দুর্যোগে বিপর্যস্ত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধান ও সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রকৃত প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























