ব্রাজিলে এক ফুটবল ম্যাচেই নজিরবিহীন ২৩ লাল কার্ড
ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মিনেইরাও স্টেডিয়ামে ঘটে গেল ফুটবল ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা। ক্লাব ফুটবলের একটি ম্যাচে তুমুল সংঘর্ষের জেরে রেফারিকে একসঙ্গে ২৩টি লাল কার্ড দেখাতে হয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলে খুবই বিরল ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
স্তাদিও গভর্নাদোর মাগালিয়ায়েস পিন্তো, যা স্থানীয়দের কাছে মিনেইরাও নামে পরিচিত, সে স্টেডিয়ামেই বাংলাদেশ সময় সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে অনুষ্ঠিত হয় কাম্পেয়োনাতো মিনেইরো টুর্নামেন্টের ফাইনাল। এ মাঠই ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ঐতিহাসিক ‘মিনেইরাজো’ ঘটনার সাক্ষী ছিলো। প্রায় এক যুগ পর আবারও এ মাঠেই ঘটে গেল আরেক নাটকীয় ঘটনা।
ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলো ক্রুজেইরো ও আতলেতিকো মিনেইরো। ম্যাচের শেষ দিকে একটি বলের দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আতলেতিকো মিনেইরোর গোলকিপার এভেরসনের সঙ্গে ক্রুজেইরোর মিডফিল্ডার ক্রিস্তিয়ানের সংঘর্ষ হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বলের দখল নেয়ার সময় দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এভেরসন ক্রিস্তিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে ক্রুজেইরোর খেলোয়াড়রা ছুটে এসে প্রতিবাদ জানান। পরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি এমনকি ঘুষাঘুষির ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চলার পর ম্যাচের রেফারি মাথেউস দেলগাদো একে একে ২৩টি লাল কার্ড দেখান।

এ সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন আতলেতিকো মিনেইরোর গোলকিপার এভেরসন। তাকে চিকিৎসা সহায়তাও নিতে হয়েছে।
এত নাটকীয় ঘটনার মধ্যেও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে জিতে কাম্পেয়োনাতো মিনেইরো শিরোপা জিতে নেয় ক্রুজেইরো। দলটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের সাবেক কোচ তিতে, যিনি সর্বশেষ দুটি বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ম্যাচ শেষে আতলেতিকো মিনেইরোর তারকা ফরোয়ার্ড হাল্ক ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমন সংঘর্ষ কোনও ফুটবল ম্যাচে দেখা খুবই দুঃখজনক। এতে খেলাধুলার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। খেলোয়াড়দের দায়িত্ব হচ্ছে মাঠে ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করা।
সবার দেশ/কেএম




























