প্রযুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক
বিশ্বকাপে গোলবন্যার পেছনে কি ‘ট্রাইওন্ডা’ বল?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গোলের বন্যা যেন থামছেই না। টুর্নামেন্টের ৫৪ ম্যাচ শেষে ইতোমধ্যে ১৬১টি গোল হয়েছে, যা ম্যাচপ্রতি প্রায় তিন গোলের সমান। আক্রমণভাগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল অ্যাডিডাসের ‘ট্রাইওন্ডা’। অনেকের প্রশ্ন, গোলের এ অস্বাভাবিক প্রবাহের পেছনে কি বলটির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যও ভূমিকা রাখছে?
বিশ্বকাপজুড়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচে দেখা গেছে, বিশ্বমানের গোলরক্ষকেরাও তুলনামূলকভাবে সাধারণ মনে হওয়া শট প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে বলে হাত লাগিয়েও গোল ঠেকানো সম্ভব হয়নি। এতে ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট সম্প্রতি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিবিসির এক আলোচনায় তিনি বলেন, ট্রাইওন্ডা বলের গতি ও আকাশে চলাচলের ধরন গোলরক্ষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে কিলিয়ান এমবাপ্পে-র একটি গোলের উদাহরণ টেনে বলেন,
স্পিনবিহীন শটও প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে গোলবারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে গোলরক্ষকরা সঠিক অবস্থানে থেকেও বলের গতি ও গতিপথ পুরোপুরি অনুমান করতে পারছেন না।
জো হার্টের ভাষায়, গোলকিপাররা ঠিকমতো ডাইভ দিচ্ছেন, কিন্তু বল এত দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে যে অনেক সময় স্পর্শ করার পরও সেটিকে থামানো সম্ভব হচ্ছে না।
এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও। দক্ষিণ কোরিয়ার Seoul Women's University এবং জাপানের University of Tsukuba-এর গবেষকরা বলছেন, ট্রাইওন্ডা নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছানোর পর আশপাশের বায়ুপ্রবাহকে এমনভাবে কাজে লাগায় যে এটি দীর্ঘ সময় গতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এর ফলে গোলরক্ষকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে যায়।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বলটির চার-প্যানেল নকশা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ব্যবহৃত Al Rihla-তে যেখানে ২০টি প্যানেল ছিলো, সেখানে ট্রাইওন্ডায় রয়েছে মাত্র চারটি বড় প্যানেল। এ নকশা বলের বায়ুগতিশাস্ত্র, স্থিতিশীলতা এবং গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শট নেয়ার সময় বলের কোন অংশে আঘাত করা হচ্ছে, বলের খাঁজ ও সমতল অংশের অবস্থান এবং ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার ভৌগোলিক উচ্চতাও বলের আচরণে প্রভাব ফেলছে। ফলে একই ধরনের শট বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন ফলাফল তৈরি করতে পারে।
তবে বল প্রস্তুতকারী অ্যাডিডাস দাবি করেছে, ট্রাইওন্ডা তৈরির আগে ৩০০টিরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, বলটির নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এর গতিপথ আরও নির্ভুল ও ধারাবাহিক থাকে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে কেবল বল নয়, আধুনিক আক্রমণাত্মক কৌশল, উচ্চ প্রেসিং ফুটবল, দ্রুত ট্রানজিশন এবং রক্ষণভাগের ঝুঁকিপূর্ণ খেলার ধরনও সমানভাবে দায়ী। তবে ট্রাইওন্ডার প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সবার দেশ/কেএম




























