হিমেনেজ–কিনিয়োনেসের জোড়া আঘাতে স্বাগতিকদের দাপুটে জয়
ইকুয়েডরকে উড়িয়ে ৮ বছর পর শেষ ষোলোয় মেক্সিকো
মেক্সিকোর ফুটবলে উৎসবের উপলক্ষ এনে দিলো স্বাগতিকরাই। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৮ বছর পর আবারও টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। প্রথমার্ধেই করা দুটি গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনও গোল না হলেও পুরো ম্যাচজুড়েই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
মেক্সিকো সিটির স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে মেক্সিকো। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। সতীর্থের ক্রস থেকে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় হেড করার সুযোগ পেলেও ইকুয়েডরের গোলরক্ষকের সামনে বল পাঠিয়ে সে সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।
তবে সে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একের পর এক আক্রমণের পর ২২ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় মেক্সিকো। ডান প্রান্ত থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন উইঙ্গার হুলিয়ান কিনিয়োনেস। গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মেক্সিকো।
৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমেনেজ। প্রতিপক্ষের বক্সে চমৎকার সমন্বিত আক্রমণের পর প্রায় ১০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শটে কোনও সুযোগই পাননি ইকুয়েডরের গোলরক্ষক। ৩৫ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকারের গোলেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় মেক্সিকো।
অবশ্য প্রথমার্ধে ইকুয়েডরও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলো। ১৮ মিনিটে জন ইয়েবোয়ার জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, যা হলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারতো। এরপর ৪০ মিনিটে আরেকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে তারা। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় এক হাতে ঠেকিয়ে দেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেল। ফলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ইকুয়েডরকে।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় ইকুয়েডর। তবে মেক্সিকোর সুসংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের কোনও সুযোগই কাজে লাগাতে দেয়নি। বরং ৬৭ মিনিটে তৃতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। সেজার মন্তেসের শক্তিশালী শট অসাধারণ এক হাতে ঠেকিয়ে দলকে বড় ব্যবধানে হার থেকে রক্ষা করেন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক এরনান গালিন্দেজ।
যোগ করা সময়ের আগে আরও একটি নিশ্চিত সুযোগ পেয়েছিলো মেক্সিকো। তবে প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন দুই খেলোয়াড়। এরপর আর কোনও গোল না হলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এদিকে ম্যাচের শেষ দিকে ঘটে আরেকটি নাটকীয় ঘটনা। যোগ করা সময়ে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে উদ্দেশ্য করে মুখ ঢেকে কিছু বলার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সেটি পর্যালোচনা করেন। পরে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। নতুন এ নিয়মে বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখা দ্বিতীয় ফুটবলার হলেন হিনকাপিয়ে। এর আগে একই কারণে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড দেখেছিলেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন।
এ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল মেক্সিকো। সর্বশেষ তারা ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় খেলেছিলো। এবারও ঘরের সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করে আরও বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে উত্তর আমেরিকার শক্তিশালী দলটি।
সবার দেশ/কেএম




























