সুযোগ পেয়েও ইংল্যান্ড-বধ হলো না বাঘিনীদের
নারী বিশ্বকাপে একদম নাগালের মধ্যে জয়ের সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের মেয়েদের হাতে। কিন্তু ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিদার নাইটের ব্যাটে সে স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। মারুফ আক্তারের আগুনঝরা স্পেল আর ফাহিমা খাতুনের জোড়া আঘাতেও জয়ের দরজা খুলতে পারেনি বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হেরে মাঠ ছাড়ে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
নাটকীয় এ ম্যাচের মোড় ঘোরানোর সুযোগ এসেছিলো দু’দুবার—দুটি জীবন পেয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটার হিদার নাইট, আর সে জীবন নিয়েই গড়ে তোলেন অপরাজিত ইনিংস।
৭৯ রানে অপরাজিত থাকা নাইট প্রথমে শূন্য রানে, পরে ১৩ রানে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান। টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে দু’বারই আউট থেকে রক্ষা পান এ ইংলিশ ব্যাটার। এরপর আর কেউ তাকে থামাতে পারেননি। নাইটের ব্যাট থেকে আসে ৮ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ম্যাচজয়ী ইনিংস।
ইংল্যান্ডের ইনিংস গড়ার শুরুটা ছিল বিপর্যয়ময়। মাত্র ২৯ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের পেসার মারুফ আক্তার। এরপর তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ও নাইট ৪০ রানের জুটি গড়ে দলের ভিত মজবুত করেন।
তবে মাঝখানে ফাহিমা খাতুনের ঘূর্ণিতে আবারও ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। ৯ রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলেন। এরপর সানজিদা আক্তার মেঘলা ক্যাপসিকে ফেরালে ম্যাচের ভার এক পর্যায়ে বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকেছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাইটের অবিচল ব্যাটিং আর চার্লি ডিনের সহায়তায় জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ডিন ২৭ রানে অপরাজিত থেকে বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংসের ভরসা হয়ে দাঁড়ান সোবহানা মোস্তারি। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দল পায় ১৭৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ। মোস্তারি ৬০ রানের ইনিংসে খেলেন অ্যাঙ্করের ভূমিকা। ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তোলেন রাবেয়া খান—মাত্র ২৮ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ৬ চার ও ১ ছক্কায়।
ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন সোফি এচলেস্টন, নিয়েছেন ৩ উইকেট।
বাংলাদেশ লড়েছে মনোবল নিয়ে, দিয়েছে ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দেওয়া প্রতিরোধ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য—আর হিদার নাইটের দৃঢ়তা—বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পথে।
সবার দেশ/কেএম




























