অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে
পাটুরিয়ায় ফেরিতে আগুন—কালো ধোঁয়ায় আতঙ্ক
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীবোঝাই রোরো ফেরি ‘কেরামত আলী’-তে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পাটুরিয়া ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেরিটি পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিচের সাইলেন্সার পাইপের ছিদ্র দিয়ে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে শুরু করে। সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এতে ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে—অনেকে কান্নাকাটিও শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ফেরিটিকে ঘাটে ফিরিয়ে এনে পন্টুনে ভেড়ানো হয় এবং যাত্রী ও যানবাহন নামিয়ে ফেলা হয়। ফেরির স্টাফরা তাৎক্ষণিকভাবে হোস পাইপ দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলেন।
বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুবেলুজ্জাম উদ্দিন জানান, ফেরিটির ইঞ্জিন দু’স্ট্রোক হওয়ায় লুব অয়েল বা মবিল সাইলেন্সার পাইপে জমে গিয়ে কার্বনে পরিণত হয়। সেখান থেকেই হঠাৎ আগুনের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের আগুন মাঝে মাঝে দেখা যায়, তবে আজকের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিলো।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটির কারণ বিস্তারিতভাবে জানতে ফেরিটিকে ভাসমান কারখানা ‘মধুমতী’-তে পাঠানো হয়েছে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং টিম বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।
শিবালয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফেরির কর্মীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনাটি বড় কোনও দুর্ঘটনা নয়। তবে কেনো এত বেশি আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
ঘটনার পর ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সবার দেশ/কেএম




























