আহত ১৫
আমির হামজার গাড়িতে হামলা, জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষ
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় এমপির গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় ও একটি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সম্প্রতি ‘গণঅধিকার পরিষদ দুজনের দল’—আমির হামজার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক। বিকেল ৫টা থেকে দলটির নেতাকর্মীরা আমির হামজার বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশের শেষ দিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশি প্রটোকল নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন আমির হামজা। এ সময় তার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে ঘটনাটি দ্রুত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আমির হামজার অভিযোগ, গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার নেতা আব্দুল খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, হামলাকারীদের হাতে হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ছিলো। ইটের আঘাতে গাড়ি ভেঙে যায় এবং তার চাচার পা কেটে যায়। এ ঘটনায় তিনিও কপালে আঘাত পেয়েছেন এবং তার দলের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকিরের দাবি, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিলো। এ সময় আমির হামজার সমর্থকেরা সেখানে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, তাদের দলের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি দলের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেট এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ছয় রাস্তার মোড়ের হরিপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক গণঅধিকার পরিষদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি নেই এবং তাদের কর্মীসংখ্যাও কম। বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকার পরও এমপির গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় পুলিশের ভূমিকা ছিলো নীরব।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। এমপির সমর্থকেরাই সেখানে গিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় শহরের ছয় রাস্তার মোড় ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























