সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির যোগ্যতা স্নাতক বহাল
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি থাকার বাধ্যবাধকতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সব ধরনের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে চাইলে তার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
তিনি জানান, আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিলো না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতার ঘাটতি দেখা দিতো।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মে মাসে প্রবিধানমালা সংশোধন করে প্রথমবারের মতো সভাপতির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। সে সময় নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির জন্য অন্তত এইচএসসি বা সমমানের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিলো।
এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে সেই যোগ্যতা আরও বাড়ানো হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, গভর্নিং বডির সভাপতি হতে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়।
সম্প্রতি সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন–এর উপস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি রাখার সিদ্ধান্তে উপনীত হয় সরকার।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা হলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতা বাড়বে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা আসবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
সবার দেশ/কেএম




























