ইরানের হামলায় নেতানিয়াহুর পরিণতি ঘিরে অনিশ্চয়তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং হাইফা বন্দরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবস্থা বা অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে জানায়, ‘ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ এবং তাদের বিমানবাহিনীর প্রধান কার্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে হামলার ফলে ঠিক কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা নেতানিয়াহু আহত বা নিহত হয়েছেন কি না—সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি আইআরজিসি।
এদিকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সোমবার জেরুজালেমের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী শাখা ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি এবং সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনার পর এ সংঘাত সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয় এবং দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও ইরাকসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলার তৃতীয় দিনেও উত্তেজনা কমেনি। সোমবার কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া কোনও হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরাসরি হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধকে আরও অনিশ্চিত ও বিস্ফোরক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এএফপি, মেহের নিউজ
সবার দেশ/কেএম




























