Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২৩, ২ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২২:২৫, ২ মার্চ ২০২৬

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজুর ইন্তেকাল

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজুর ইন্তেকাল
ফাইল ছবি

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যসম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু আর নেই। সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম–এর শ্রদ্ধেয় মাতা।

তার স্বামী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী। পাকিস্তান আমলে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা আরজু। অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তিনি। ১৯৪৫ সালে ‘আজাদ’ পত্রিকার ‘মুকুলের মাহফিল’ বিভাগে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর ‘সওগাত’, ‘মোহাম্মদী’, ‘বেগম’, ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে তার কবিতা ও প্রবন্ধ।

তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নারীসম্পাদিত সাহিত্যধারায় এটি ছিলো এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। সম্পাদনা ও সাহিত্যচর্চায় তার ভূমিকা বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জাহানারা আরজুর কবিতায় মানবতাবোধ, মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমের গভীর প্রকাশ পাওয়া যায়। মাটি, মানুষ ও সমাজের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে তিনি সহজ ও আবেগঘন ভাষায় তুলে ধরেছেন। তার লেখায় যেমন ব্যক্তিগত বেদনার অনুরণন ছিলো, তেমনি ছিলো আশাবাদ ও আলোকিত মানবিকতার শক্ত বার্তা।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। সাহিত্যসাধনার জন্য জীবদ্দশায় মোট ২৬টি পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও অন্যান্য রচনাবলি বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মরহুমার প্রথম নামাজে জানাজা সোমবার বাদ মাগরিব গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় জানাজা বাদ এশা ও তারাবির নামাজের পর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার খলিলপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সেখানে তার স্বামীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

মিঠামইনে কুপিয়ে হত্যা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে
দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী
আজ জুলাই শহীদ দিবস: রাষ্ট্রীয় শোক পালন
জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ডিসেম্বরে ফিরলে বিমানবন্দরে গ্রেফতার, রায় কার্যকর হবে: নাহিদ
মার্কিন সিনেটে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল আটকে দিলেন ডেমোক্র্যাটরা
ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ
কাশিয়ানীতে বিএনপি নেতাদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা
মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড ঝুঁকিতে
ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট ফের চালু হচ্ছে ২৭ জুলাই
ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে স্পেন
নরসিংদীতে ২ মাসের শিশুর পা ভেঙ্গে দিলো আপন চাচি!
ফ্রান্সে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো ‘ফেত নাসিওনাল’
বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দিল্লিতে বসে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, ঢুকলেই গ্রেফতার: আইনমন্ত্রী