ইরান যুদ্ধের বিরোধিতায়
মার্কিন সিনেটে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল আটকে দিলেন ডেমোক্র্যাটরা
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি বিল (এনডিএএ) আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন, সুস্পষ্ট কৌশল ও যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সিনেটে বিলটির ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিলের পক্ষে ৫০ এবং বিপক্ষে ৪৬ ভোট পড়ে। তবে ১০০ সদস্যের সিনেটে পরবর্তী ধাপে বিলটি এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট না পাওয়ায় এটি আটকে যায়।
ভোটাভুটিতে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট ছিলো। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন সংসদীয় নিয়ম অনুসারে ‘না’ ভোট দেন, যাতে ভবিষ্যতে বিলটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকে। বাকি রিপাবলিকান সিনেটররা বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই, কোনও সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়াই এবং যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এ প্রতিরক্ষা বিল অনুমোদন দেয়া হলে তা চলমান যুদ্ধের প্রতি কংগ্রেসের নীরব সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এতো বড় প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন দেয়া রাজনৈতিকভাবে ভুল বার্তা দেবে। ভোটের ঠিক আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সব বন্দরে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ এবং নতুন সামরিক হামলা শুরুর ঘোষণা দেয়ায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ব্যয় সংকোচন করা হলেও সামরিক ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদের মতে, এনডিএএতে প্রস্তাবিত ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের চেষ্টা চলছে, যাতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়াই অর্থ অনুমোদন সম্ভব হয়। এতে মোট সামরিক ব্যয় প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতা জন থুন ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে বলেন, তারা জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার ভাষায়, এ বিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।
প্রস্তাবিত এনডিএএ বিলে নতুন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহ, সেনাসদস্যদের বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতি বছরই দুই দলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি বিল পাস হয়ে এসেছে। তবে এবার ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়েছে।
তবে বিলটির আইন হওয়ার প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পৃথক সংস্করণ অনুমোদনের পর দুই কক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত খসড়া তৈরি হবে। এরপর তা স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে।
সবার দেশ/কেএম




























