Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩৬, ১৫ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ০০:৩৭, ১৫ জুলাই ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে 

বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

গণভোটে জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতেই গণভোটের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। সরকার সে সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী আলোচনার নোটিশ উত্থাপন করেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাব আমিই করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিলো সনদের আইনি ভিত্তি তৈরি করা। এখন সে সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য। তাই বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এসে আলোচনায় অংশ নিতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই প্রশ্নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য রয়েছে এবং সে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য ধরে রাখতে হবে। কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল যেনো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করতে না পারে এবং আন্দোলনকে বিতর্কিত না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, সবার আগে বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুরু থেকেই বিএনপি এ দাবিতে সোচ্চার ছিলো। পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তিও তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশে ফিরলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়িয়ে বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে সরকার সংবিধান সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন খালি রাখা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলকে সংসদীয় আলোচনায় ফিরে এসে কমিটিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিটি শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, ‘ক’ শ্রেণির আহতদের ৫ লাখ, ‘খ’ শ্রেণির আহতদের ৩ লাখ এবং ‘গ’ শ্রেণির আহতদের এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক ভাতা চালু হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের প্রয়োজন হলে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জুলাই ঘোষণাপত্র। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে। কিন্তু সংসদে আলোচনায় এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই ছিলো সাড়ে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি। তাই শুধু জুলাইয়ের শহীদ নয়, দীর্ঘ আন্দোলনে নিহত, আহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার সব মানুষকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি জানান, ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন জুলাইযোদ্ধার সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। অনেক আহত ব্যক্তি এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তিনি আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়েও তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, জুলাই জাদুঘর দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া উচিত এবং জুলাই ফাউন্ডেশনকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিলম্বিত হলে জাতি তা মেনে নেবে না। তবে বিচার অবশ্যই ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে হতে হবে এবং কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সীমান্তে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার, বিরোধী দল এবং সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এখন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত সত্য এবং এটি ভবিষ্যতেও জাতীয় চেতনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে থাকবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট বিচারকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, ১২টি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে, চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে এবং তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৫৯০টি অভিযোগ থেকে ১০৯টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে, ছয়টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং চারটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে। এছাড়া একজন রাজসাক্ষী খালাস পেয়েছেন এবং ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে তদন্ত এবং দেশের বিভিন্ন জেলার জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে বসে যারা আত্মসমর্পণের হুমকি দিচ্ছেন, বাংলাদেশের আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনও সুযোগ নেই। তারা দেশের সীমান্তে প্রবেশ করলেই গ্রেফতার হবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণ কখনোই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেবে না।

আলোচনা উত্থাপনকারী সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তাই অপপ্রচার চালিয়ে সে বাস্তবতা আড়াল করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিলো সবচেয়ে বড় জনসম্পৃক্ত আন্দোলন। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রবাসীরাও এতে অংশ নিয়েছিলেন। এত বড় আত্মত্যাগের পরও বিচারকাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

এ আলোচনায় আরও অংশ নেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে স্পেন
নরসিংদীতে ২ মাসের শিশুর পা ভেঙ্গে দিলো আপন চাচি!
ফ্রান্সে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো ‘ফেত নাসিওনাল’
বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দিল্লিতে বসে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, ঢুকলেই গ্রেফতার: আইনমন্ত্রী
সংবিধানে গণভোট না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: জামায়াত আমির
শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যে সংসদে দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর
ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিলো বলেই আপনারা মন্ত্রী: হাসনাত
হাসিনা দেশে ফিরলেই রায় কার্যকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপি কি একদলীয় শাসনের পথে?—প্রশ্ন আখতার হোসেনের
সংসদের ছাদ চুইয়ে পানি, আমার ঘরেও বাটি রাখতে হয়—ডেপুটি স্পিকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটি
মডেল মসজিদের নামে আওয়ামী লুটপাটের তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২ কোটি টাকা চাঁদা না দেয়ায় ভাঙচুর-লুট
অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর পিএস ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার
সাগরে ট্রলারডুবিতে চারজনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে ইতিহাসের উত্তাপ আবারও মাঠে