Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৩, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন ৫ হাজার নার্স

কিডনি রোগীদের জন্য সুখবর, জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস

প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে ৫০ ও জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কেন্দ্র • তৈরি হচ্ছে ২,৫০০ নতুন পদ • ধাপে ধাপে উপজেলা পর্যায়েও সেবা

কিডনি রোগীদের জন্য সুখবর, জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস
ছবি: সংগৃহীত

দেশের কিডনি রোগীদের জন্য বড় পরিসরে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সব জেলা ও পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে তিন মাস মেয়াদি ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট—দুই ক্যাটাগরিতে মোট ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক ডায়ালাইসিস সেবার ওপর চাপ কমার পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরাও নিজ নিজ এলাকায় চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানান, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে ডায়ালাইসিস প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

তিনি জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেটসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ব্যাপক পরিসরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণসহ এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেলের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী বা ‘রেকর্ড অব নোটস’ পাঠানো হয়।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনও ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন।

তবে দেশে ডায়ালাইসিস সেবা এখনও মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকার রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। অনেকের পক্ষে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ব্যয় ও যাতায়াতের চাপ সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায়। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবার ঘাটতি এখনও বড় সমস্যা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা স্থাপনের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২ হাজার ৫০০ নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর ডায়ালাইসিস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্যাচে প্রশিক্ষণার্থী থাকবে ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।

ডায়ালাইসিস সেবার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট দূর করার বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। কোনও উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক সেখানে নিয়োগ দেয়া হবে।

এ ছাড়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুরে মেডিক্যাল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য রাজধানী বা বড় শহরে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এটি কিডনি চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

নিষিদ্ধই থাকছে আ. লীগ, প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ
কিডনি রোগীদের জন্য সুখবর, জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস
জাভা সাগরে ২৪১ যাত্রীসহ জাহাজ নিখোঁজ
বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ৪ জনের প্রাণহানি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত ১৮ সেপ্টেম্বর
ভারত থেকে বাংলাদেশে টনে টনে ইলিশ আমদানি
মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার
বিশ্বনেতাদের চোখ সরাতে দিল্লির বস্তি ঢাকলো কাপড়ে
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি না যাওয়ার ঘোষণায় কমলো আদানির বিদ্যুৎ
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পাহারাদার চায় না ইরান: মাসুদ পেজেশকিয়ান
শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসিতে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির
জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে বাকের-তাহমীদ
বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধেও হুতি থেকে পিছু হটলো যুক্তরাষ্ট্র!
হরমুজে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া মার্কিন সুরক্ষা সম্ভব নয়
তরুণদেরকেই দায়িত্ব নিয়ে দেশটা গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী
অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর রেকর্ডে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য কামব্যাক
ছাত্রশক্তির কাউন্সিল আজ, গোপন ভোটে নির্বাচিত হবে নেতৃত্ব
ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন শুরু আজ