তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর আলোচনা নয়—পাকিস্তানকে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনx সম্মতি দেয়নি ইরান। তেহরানের এ অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘নৌ অবরোধ’ এবং চলমান বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ ইরানের অনড় অবস্থানের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আলোচনায় বসতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এসব অতিরিক্ত শর্ত থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘসূত্রতা ও ফলহীন সংলাপে সময় নষ্ট করতে আগ্রহী নয় তেহরান।
এদিকে একই সময় আবারও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইরান। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে উন্মুক্ত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার প্রণালিটি কার্যত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী।
ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ‘সমুদ্রদস্যুতা’র শামিল। এ অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এ পথ বন্ধই থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং পুরো ব্যবস্থাপনা এখন সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে।
পরিস্থিতির এ মোড় ঘুরে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলবাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিতে পারে।
এর আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান সাময়িকভাবে প্রণালিটি উন্মুক্ত ঘোষণা করেছিলো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে ঘোষণা দেন।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েন এখন কূটনৈতিক অচলাবস্থা থেকে সরাসরি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























