প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও জিয়া নেই কেনো—জবাব দিলেন জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ‘জুলাই এখনও শেষ নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি থাকলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি বা ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ না থাকায় প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। এর জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রদর্শনীতে স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। জিয়াউর রহমান স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন না বলেই তার শাসনামল প্রদর্শনীতে স্থান পায়নি।
শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জামায়াত আমির। গত ৫ আগস্ট শুরু হওয়া তিন দিনের এ স্থিরচিত্র প্রদর্শনী শনিবার রাতে শেষ হয়।
প্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ছবি, তাদের পরিবারের সদস্যদের লেখা চিঠিসহ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ছবি ও তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বকে আলাদা আলাদা অংশে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর একটি অংশে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, শেখ মুজিবুর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও শেখ হাসিনাকে স্বৈরশাসক বা কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সময়কে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’ নামে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের অংশে ৭ মার্চের ভাষণের একটি ছবি রাখা হয়েছে। এরপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ, জেনারেল নিয়াজির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, বাংলাদেশিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর হামলা এবং সর্বশেষ বিজয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালকে ‘একনায়কতন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা, দুর্ভিক্ষ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
এরপর ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়কে ‘সামরিক স্বৈরশাসন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ অংশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরশাসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তৎকালীন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতের বর্তমান নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের অংশগ্রহণের ছবি ও তথ্য রাখা হয়েছে।
প্রদর্শনীর শেষভাগে ‘ফ্যাসিবাদ’ শিরোনামে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
এ প্রদর্শনী নিয়ে শনিবার প্রশ্ন তোলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই আন্দোলনের ছবি রাখা হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, বক্তব্য বা পোস্টার নেই। বিষয়টি রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভীর এ বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন,
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই কেনো? জিয়াউর রহমান স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন না। এ জন্য তার শাসনামল প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, যারা কর্তৃত্ববাদী ছিলো, যারা আগ্রাসী ছিলো, জুলুমবাজ ছিলো, আমরা তাদের এখানে তুলে এনেছি। এখানে দেখবেন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান সবাই আছে; কিন্তু কেউ বাদ পড়েনি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে আনা হয়েছে।
প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে শফিকুর রহমান বলেন, কোনও নির্দিষ্ট সরকারের সফলতা তুলে ধরার জন্য এ আয়োজন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে যারা স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শাসন করেছে, তাদের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং ওই সময় জনগণ কীভাবে নিগৃহীত হয়েছে, তা তুলে ধরাই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের জনগণ, শহীদ এবং শহীদ পরিবারের প্রত্যাশার বিষয়টিও প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত রাজনৈতিক নিপীড়ন ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























