বৃটেনে কারাদণ্ড প্রাপ্ত রেজাউল বহাল তবিয়তে বাংলাদেশে
প্রতারণা ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগে বৃটেনের আদালতে ৩১ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেজাউল করিম বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দেশে ঘোরাফেরার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তাকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। এমনকি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে প্রচারণাও চালাচ্ছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে বৃটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, বৃটেনের আদালতে গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের টকশোতে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বৃটেনে ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ব্যাপক ভিসা জালিয়াতি এবং করসংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। দীর্ঘ তদন্তে তার নেতৃত্বাধীন চক্রের শত শত ভুয়া নথি তৈরির তথ্য উঠে আসে। বিভিন্ন ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ৯০০টির বেশি ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছিলো বলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তদন্তে উঠে আসে।
এ ছাড়া এসব ভুয়া কোম্পানির নামে ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের কর ফেরত বা আর্থিক দাবি করা হয়েছিলো। জাল নথি ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অর্থ ও অভিবাসন সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছিলো চক্রটি।
তদন্তে রেজাউল করিমের সঙ্গে তার শ্যালক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যায়। ব্রিটিশ বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত শুরু করলে তিনি প্রথমে আয়ারল্যান্ডে পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে তিনি আবারও বৃটেন ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে মামলার বিচার শেষে রেজাউল করিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে সাজা ঘোষণার আগেই তিনি বৃটেন থেকে পালিয়ে যাওয়ায় আদালতের দেয়া দণ্ড কার্যকর হয়নি। তার সঙ্গে মামলার আরেক অভিযুক্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও শ্যালকও দেশ ছাড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃটেনে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও বাংলাদেশে প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রেজাউল করিম আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জাতীয়তাবাদী দলের নামে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনের ব্যানারেও তার কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ‘শেরেবাংলা রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ ও ‘জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র’সহ কয়েকটি সংগঠনের নাম সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন <<>> বৃটেনে প্রতারণার দায়ে বাংলাদেশিসহ ৫ জনের জেল
এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতেও তাকে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব জায়গায় তার নামের আগে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
বৃটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একাংশের প্রশ্ন, গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় বৃটেনের আদালতে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে বাংলাদেশে অবাধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল কীভাবে তাকে আলোচনায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিচ্ছে, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
বৃটেনে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও মামলার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ বিব্রত ও ক্ষুব্ধ বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাদের মতে, একজন ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ওপর বর্তায় না। তবে এমন ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ফলে বৃটেনের আদালতে দণ্ডিত রেজাউল করিম কীভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তার বিরুদ্ধে দেয়া সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানার বর্তমান অবস্থা কী এবং দেশে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় কোনো আইনি বাধা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও সামনে আসছে।
সবার দেশ/কেএম




























