নারী এশিয়া কাপ
আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
জিততেই হতো। হারলেই শেষ হয়ে যেত এশিয়া কাপের পথচলা। এমন বাঁচা-মরার ম্যাচে ব্যাট হাতে আবারও হতাশ করেছেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতা এবারও পুষিয়ে দিয়েছেন বোলাররা। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
দুবাইয়ে মঙ্গলবার রাতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় আরব আমিরাত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো স্বাগতিকরা শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬৯ রানেই থেমে যায়।
এ জয়ে তিন ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৪। ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। অন্য সেমিফাইনালে লড়বে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান।
ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ গড়তে না পারলেও বল হাতে শুরু থেকেই দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখান বাংলাদেশের বোলাররা। নতুন বলে আবারও আলো ছড়ান পেসার মারুফা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী এ পেসার। চলতি আসরে তিন ম্যাচে তার শিকার এখন ৭ উইকেট।
মারুফাকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন একাদশে ফেরা লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার নেন ২ উইকেট। এছাড়া সুলতানা খাতুন ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে এবং ফাহিমা খাতুন ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা খায় আরব আমিরাত। অধিনায়ক ইশা ওজাকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। পঞ্চম ওভারে সামাইরা ধরনিধরকাকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মারুফা।
পাওয়ার প্লেতে আমিরাতের ব্যাটিং ছিলো একেবারেই অসহায়। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ১৫ রান সংগ্রহ করে তারা, যা চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনও দলের সর্বনিম্ন পাওয়ার প্লে স্কোর।
অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে রিনিথা রজথকে ফিরিয়ে দেন রাবেয়া খান। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকা ওপেনার তীর্থ সতীশকে ফেরান সুলতানা খাতুন। এক ওভার পর লাবণ্য কেনিকে নিজের শিকার বানান নাহিদা আক্তার।
মাত্র ৩৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত অলআউট না হলেও বাংলাদেশের জয় ঠেকানোর মতো কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি তারা। তিন ম্যাচে এক জয় নিয়ে গ্রুপ পর্বেই থেমে যায় আরব আমিরাতের যাত্রা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সুরক্ষা কোটির বলে কোনও রান না করে ফেরেন দিলারা আক্তার। পরের ওভারে মাত্র ৩ রান করে একই বোলারের শিকার হন সোবহানা মোস্তারি।
মাত্র ৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তরুণ ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌসকে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। দুজন মিলে ৩১ রানের জুটি গড়লেও বড় করতে পারেননি সেটি। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ১৬ রানে ফেরেন জুয়াইরিয়া।
এরপর শারমিন আক্তার সুপ্তাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন জ্যোতি। কিন্তু ১১তম ওভারে নিরীহ ফুলটসে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন ২৩ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক।
জ্যোতির বিদায়ের পর আরও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গেলে ৬ উইকেটে মাত্র ৫৫ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।
তখন মনে হচ্ছিলো, ৮০ রানের মধ্যেই হয়তো আটকে যাবে বাংলাদেশের ইনিংস। তবে সেই শঙ্কা কাটিয়ে দেন সুপ্তা ও নাহিদা আক্তার।
চলতি আসরে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া শারমিন আক্তার সুপ্তা সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৪৩ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এ জুটিই বাংলাদেশকে শতরানের গণ্ডি পার করতে বড় ভূমিকা রাখে।
খেলার গতির বিপরীতে দারুণ ব্যাটিং করেন সুপ্তা। ৩টি চারের সাহায্যে ৩১ বলে ৩৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে নাহিদা ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।
তাদের লড়াকু ব্যাটিংয়েই শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। আর সে সংগ্রহকে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩৪ রানের জয়ে রূপ দেয় নিগার সুলতানার দল।
আমিরাতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন সুরক্ষা কটি। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























