পারমাণবিক অস্ত্রই বিশ্বকে বড় যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে: রাশিয়া
বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক অস্ত্রই বর্তমানে বৈশ্বিক সংঘাত প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। নতুন করে বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা সংকট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এমন অবস্থান তুলে ধরেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
বুধবার (২৪ জুন) মস্কোয় অনুষ্ঠিত এক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পেসকভ বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ছাড়া বড় ধরনের যুদ্ধ ঠেকানোর মতো কার্যকর কোনও ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই।
তিনি বলেন, বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এটিই একমাত্র বিষয়, যা বিশ্বকে একটি বৈশ্বিক সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা করছে।
পেসকভ আরও সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ভবিষ্যতে যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে। তার মতে, এমন নতুন ধরনের অ-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমতুল্য হয়ে উঠতে পারে।
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের সময় একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা ও রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক হুমকি প্রদানের অভিযোগও করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। তার প্রস্তাবিত কাঠামোয় চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। যদিও চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার এখনো রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ছোট, তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে বেইজিং প্রকাশ্যে এ ধরনের উদ্যোগে চাপ প্রয়োগের বিরোধিতা করেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার দাবি হলো—যদি নতুন কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ পারমাণবিক শক্তিধর মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও একই কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে কার্যকর থাকা সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্ট চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তির অস্ত্রভান্ডারের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাগুলো কার্যত উঠে গেছে।
এখন পর্যন্ত চুক্তিটি নবায়ন কিংবা এর বিকল্প কোনও নতুন সমঝোতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ওপর কার্যকর কোনও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বলবৎ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তি ছিলো স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনযোগ্য পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখতে পারতো। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























