কৃষ্ণসাগরে রাশিয়াগামী তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা
কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রারত একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর ট্যাংকারটি তুরস্কের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কাছে সহায়তা চায় এবং পরে নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর রুট পরিবর্তন করে আবার যাত্রা শুরু করে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স–এর নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানায়, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এলবাস’ নামের ট্যাংকারটি বুধবার মনুষ্যবিহীন সামুদ্রিক যান ও ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলায় ট্যাংকারটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্যবস্তু করা হলেও জাহাজে থাকা ২৫ জন নাবিকের কেউ আহত হননি। এছাড়া তেল নিঃসরণ বা পরিবেশগত দূষণের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণে এটি ড্রোন হামলা বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত—সে বিষয়ে এখনও কোনও পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়াগামী একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর থেকে জাহাজ বীমার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ওই সময় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করে পাল্টা জবাবের হুমকি দেয় মস্কো। পরে উত্তেজনা প্রশমনে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানায় তুরস্ক।
ডিসেম্বরে আরেকটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজ কৃষ্ণসাগরে হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করে রাশিয়া, যদিও ইউক্রেন সে অভিযোগ অস্বীকার করে।
এলবাস ট্যাংকারে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি। একইভাবে তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং আঙ্কারায় নিযুক্ত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব শস্য, তেল ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণসাগরের জলসীমা তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া ও রোমানিয়ার মধ্যে বিভক্ত।
লয়েডসের তথ্যমতে, এলবাস ট্যাংকারটি সিঙ্গাপুর থেকে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলো। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, পথ পরিবর্তনের পর বৃহস্পতিবার এটি তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় ইনেবোলু বন্দরের উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলো। পরে নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করে ইনেবোলুর নোঙরস্থলে নোঙর ফেলে জাহাজটি।
সবার দেশ/কেএম




























