Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:০৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে সরকারের কড়া সমালোচনায় জামায়াত এমপি রফিকুল

‘দুই মাসেই আওয়ামী কায়দায় দেশ শাসনের গন্ধ’

‘দুই মাসেই আওয়ামী কায়দায় দেশ শাসনের গন্ধ’
ছবি: সংগৃহীত

সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ‘আওয়ামী স্টাইলে’ দেশ পরিচালনার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করেন, বৈষম্য ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও এখন একই ধরনের দলীয়করণ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের চর্চা শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে দেয়া বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তন, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ এবং সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের ওএসডি করার ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। তার ভাষ্য, ফ্যাসিবাদী আমলে যেসব কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছিলো, এখন আবার তাদের একইভাবে ওএসডি করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এ সংসদ সদস্য বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের প্রস্তাব বিএনপির পক্ষ থেকেই এসেছিলো। কিন্তু এখন গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে টালবাহানা করছে বিএনপি। তার দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে চলমান রাজনৈতিক সংকট ও মতপার্থক্যের অনেকটাই সমাধান হয়ে যেতো।

সরকারি দলের সদস্যদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে কোনও সমস্যা নেই, সমস্যা শুধু বিরোধী দলকে ঘিরে। অথচ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সরকারি দলের সদস্যদের কোনও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক সম্পর্কের অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার পরিচালনায় ছিলো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই জামায়াতকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, এ নির্বাচনের পরেই আমরা জামায়াত এত খারাপ হয়ে গেলাম কেনো?

বক্তব্যে তিনি ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তোলেন। তার দাবি, ওই সময় সারা দেশ থেকে লাখো মানুষ ঢাকায় এসেছিলো এবং সরকার পতনের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যৌথভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে কর্মসূচির দিন খালেদা জিয়া এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বিএনপির অন্য শীর্ষ নেতাদের ফোন বন্ধ ছিলো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি অতীতের গণহত্যা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার কোনও কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেননি। বরং তাকে সহযোগিতা করেছেন। এ কারণে এমন একজন ‘বিতর্কিত ব্যক্তিকে’ কেনো রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা বিএনপিই ভালো দিতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতের পক্ষে এমন বিতর্কিত রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানো সম্ভব নয়।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

দুই হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আইভী
খাবারের টেবিল থেকে কলেজ শিক্ষককে তুলে হেনস্তা ছাত্রদলের
জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী, একজন টিটনের গল্প
১০৩৫ কর্মী নেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড
ইনুকে ‘টেনশন না করতে’ বলা দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার
‘দুই মাসেই আওয়ামী কায়দায় দেশ শাসনের গন্ধ’
ট্রেনের নিচে পড়ে বেঁচে যাওয়া বাবা-ছেলের পরিচয় মিলেছে
দু’শ আসন পেয়ে মসনদের পথে মমতা?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে তোলার দাবি রুমিন ফারহানার
জঙ্গি সন্দেহে রাজধানীতে চারজন গ্রেফতার
১৪ বোয়িং কিনছে সরকার, আজ চুক্তি
ঢাকা-১৭ এর ৫ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর ৬৫ কোটি টাকার অনুদান
মমতার দুর্গে মোদির ঝড়? হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু, মারা গেছে অর্ধশতাধিক গরু
জকসু ক্রীড়া সম্পাদককে প্রকাশ্যে চড় মারলেন ছাত্রদল নেত্রী