তেল নিতে আঙুলে কালি: তারাগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
ভোটের সময় আঙুলে কালি দেয়ার দৃশ্য পরিচিত হলেও এবার জ্বালানি তেল নিতে গিয়েও চালকদের আঙুলে লাগানো হচ্ছে সে কালি। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট ও কালোবাজারি ঠেকাতে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা চালকদের দীর্ঘ সারি। পাম্প এলাকাগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে জনসমুদ্রের মতো পরিস্থিতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার সোনালী ফিলিং স্টেশন ও বালাবাড়ি এরিস্টোক্র্যাট ফিলিং স্টেশনে কড়া নজরদারিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। পাম্পে আসা চালকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের পর আঙুলে কালি দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপর নির্ধারিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এক ব্যক্তি দিনে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে পারছেন না।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ার সুযোগে একটি অসাধু চক্র বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করছিলো। এ ‘তেল সিন্ডিকেট’ ঠেকাতেই প্রশাসনের নির্দেশে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
সোনালী ফিলিং স্টেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আগে অনেকেই একাধিকবার তেল নিতে লাইনে দাঁড়াতেন। এতে সাধারণ চালকরা বঞ্চিত হতেন। এখন আঙুলে কালি দেয়ায় একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার তেল নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
তবে সাধারণ চালকদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক চালক বলেন, কালি দেয়ায় কিছুটা শৃঙ্খলা এলেও মূল সমস্যা তেলের সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি চালকের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। কোনও ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেট যেন গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগটি ইতোমধ্যে জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ একে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সবার দেশ/কেএম




























