ব্যবসায়ীর অভিযোগ
‘বৈশাখী চাঁদা’ না দেয়ায় মৎস্যজীবী দলের নেতার হামলা
পটুয়াখালী শহরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদা না দেয়ায় এক ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং তাকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে সদর থানার পাশেই জেলা পুলিশের মালিকানাধীন মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যবসায়ী খোকন মল্লিক (৪৪) বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জেলা পুলিশ ক্লাব মার্কেটের একটি দোকানে মুরগির ব্যবসা করেন।
খোকন মল্লিক অভিযোগ করেন, জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল গাজী, সদর উপজেলার মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম এবং তাদের সহযোগীরা পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের কথা বলে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করলে মঙ্গলবার দুপুরে আবারও মোবাইল ফোনে চাঁদা চাওয়া হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে তিনি দোকানে থাকা অবস্থায় বাবুল গাজী, শামীমসহ ১০ থেকে ১২ জন তার দোকানে ঢুকে হামলা চালায়। তারা দোকান ভাঙচুর করে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে বাবুল গাজী চাপাতি দিয়ে তার হাতে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খোকন মল্লিক আরও জানান, এর আগেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে একই চক্র তার পৌর নিউমার্কেটের ওষুধের দোকানে হামলা চালায়। এরপর থেকে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তার কাছ থেকে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা চাঁদা নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নিরাপত্তার কারণে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলেও জানান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাবুল গাজী। তিনি দাবি করেন, খোকন মল্লিক ‘স্বৈরাচারের দোসর’ এবং বাজারে মৃত মুরগি বিক্রি করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে খোকন উল্টো তাদের ওপর চড়াও হন, সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























