Sobar Desh | সবার দেশ মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৪৫, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১০:৪৬, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বৃষ্টিতে ভিজে তেলের অপেক্ষা

শার্শায়  স্মরণকালের জ্বালানি সংকট, জনদুর্ভোগ চরমে

শার্শায়  স্মরণকালের জ্বালানি সংকট, জনদুর্ভোগ চরমে
ছবি: সবার দেশ

যশোরের শার্শা উপজেলায় চলমান জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের দৈনন্দিন জীবনে। 

জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এরপ্রভাব পড়েছি গণপরিবহনেও। অলিখিতভাবে বেড়ে গেছে ভাড়া। ভ্যান-রিকশা ভাড়াও প্রায় ডাবল হয়েছে। এনিয়ে চরম অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে জনমনে। রাজনীতি সচেতন মহল বলছেন-এ সংকট স্মরণকালের। বহু বছর এমনটি দেখা যায়নি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পরিস্থিতি আরও করুণ চিত্র ধারণ করে। ভোর ৭টা থেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে চালকেরা পাম্পে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিছু পাম্পে সকালে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল হওয়ায় দ্রুতই লাইনের চাপ বাড়তে থাকে। অনেকেই লাইনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে যানবাহন রেখে অপেক্ষা করেছেন, আবার কেউ তেল শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পাম্পকর্মীদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছেন।

এ চিত্র দুপুর গড়ালেও দেখা গেছে। লাইনের দৈর্ঘ্য কমেনি; বরং আরও দীর্ঘ হয়েছে। এর মধ্যেই দুপুর ১টার পর শুরু হয় ভারী বৃষ্টি, যা ভোগান্তিকে নতুন মাত্রা দেয়। ছাতা, পলিথিন কিংবা সামান্য আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থাকলেও বেশিরভাগ মানুষকে ভিজেই লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। লাইনে অবস্থান হারানোর ভয়ে অনেকেই বৃষ্টির মধ্যেও সরে যাননি। দীর্ঘ সময় ভিজে থাকার কারণে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

জহির উদ্দিন নামে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক জানান, সকাল থেকে অপেক্ষা করেও এখনও তেল পাননি; বৃষ্টির মধ্যেও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। আবু সাঈদ নামে আরেকজন বলেন, লাইন ছেড়ে গেলে আবার পেছনে যেতে হবে—এ ভয়ে ভিজেই অপেক্ষা করছেন। এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি বলেও জানান তারা।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল চালক নিয়ম ভেঙে বারবার লাইনে ঢুকে তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন। পাশাপাশি ড্রাম বা বড় পাত্রে তেল সংরক্ষণের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় কৃত্রিম সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে। এতে বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে এবং প্রকৃত ভোক্তারা আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী মোটরসাইকেল চালকেরা। তেল না পেলে কর্মস্থলে যাওয়া-আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। প্রতিদিনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি, সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে যশোরের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে, এমনকি বৃষ্টিতে ভিজেও তেলের জন্য অপেক্ষা করা মানুষের দৃশ্য—সংকটের গভীরতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার সদস্যপদ পেলেন ৩৮ সাংবাদিক
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু আজ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে চমক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত ইরানের
ভুয়া লাইসেন্সে ১৭ বছর বিমান উড়িয়েছেন পাইলট
বিএনপি নেতার বাড়িতে মলমূত্র নিক্ষেপ করলো আওয়ামীকর্মীরা
মমতার কংগ্রেসে ফেরার জোর গুঞ্জন! সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক
ইসলামী ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ
আমি কারও ব্যক্তির গাড়িতে উঠিনি— এস আলমের গাড়ি বিতর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্তকে ধরতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা
দাড়ি রাখায় প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার
পাকিস্তান সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের শোকজের জবাব গ্রহণযোগ্য নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ১৩
খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির-তামিমা দম্পতি