বিতর্কের অবসান
বগুড়ার আলোচিত ৩ ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার আলোচিত তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন করেছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘ বিতর্ক, গণশুনানি ও জনমতের পর রোববার (১৯ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় নতুন নামগুলো অনুমোদন করে রেজুলেশন আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে ‘বেতগাড়ী ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে। একইভাবে মোকামতলা উপজেলার ‘সীমান্ত’ ইউনিয়নের নতুন নাম হয়েছে ‘জগন্নাথপুর ইউনিয়ন’ এবং ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘রহবল ইউনিয়ন’।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি জানান, সোমবার (২০ জুলাই) রেজুলেশনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন নামগুলো কার্যকর হবে।
গত ১৪ জুন জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এগুলোর নাম ছিলো মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম।
তবে ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’—এ তিনটি নাম ঘোষণার পর ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কারণ, ‘মীরবাড়ি’ ছিলো সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম। অন্যদিকে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম দুটি তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। পরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী নিজেও নাম পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি ডিও লেটার পাঠান।
এরপর গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়।
জনমত যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ২৩ জুন ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন বিষয়ে প্রথম দফায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২৫ জুন ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নতুন নাম ‘রহবল’ নির্ধারণের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
সব প্রক্রিয়া শেষে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় নতুন নাম অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হলো। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর নতুন নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
সবার দেশ/কেএম




























