Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৭, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ভোগান্তিতে যাত্রীরা

তেল সংকটে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা বন্ধের শঙ্কা

তেল সংকটে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা বন্ধের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার জনপ্রিয় ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা এবার জ্বালানি সংকটে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না থাকায় ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি ট্রিপ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে যেকোনও সময় পুরো সেবাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরের পর থেকেই তেলের ঘাটতি শুরু হয়। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে সেবাটির ওপর। আগে যেখানে স্বল্পসংখ্যক যাত্রী হলেই ট্যাক্সি ছেড়ে যেতো, এখন সেখানে ১৫ থেকে ২৫ জন যাত্রী না হলে ইঞ্জিন চালু করছেন না চালকেরা। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ রুটে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে বাড্ডা, রামপুরা ও গুলশান এলাকার যাত্রীরা যানজট এড়াতে এ জলপথ ব্যবহার করে থাকেন। এফডিসি, রামপুরা সেতু, গুদারাঘাট ও পুলিশ প্লাজা—এ চারটি রুটে ১৫টি ওয়াটার ট্যাক্সির মধ্যে আগে ১২-১৩টি নিয়মিত চলাচল করলেও এখন অনেকগুলোই তেলের অভাবে বন্ধ পড়ে আছে।

ওয়াটার ট্যাক্সি কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে ট্যাক্সি চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ট্যাক্সির জন্য দৈনিক প্রায় ৩০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও এখন সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ লিটার। এতে করে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা ইঞ্জিন চালানো সম্ভব হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে সীমিত আকারে সেবা চালু রাখা হচ্ছে, আর দুপুরে বেশিরভাগ ট্যাক্সি বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এফডিসি ঘাটের টিকিট চেকার সাইফুল ইসলাম বলেন, চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ১৫টির মধ্যে চারটি ট্যাক্সি ইতোমধ্যে বিকল হয়ে পড়ে আছে এবং বাকিগুলোও সীমিত সময় চলাচল করছে।

আরও পড়ুন <<>> দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী

ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নিয়মিত যাত্রী রিপা চাকমা জানান, আগে ১০ মিনিট পরপর ট্যাক্সি পাওয়া গেলেও এখন ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী ইমন মিয়া—তার ভাষায়, পর্যাপ্ত যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত চালকেরা ট্যাক্সি ছাড়ছেন না, ফলে সময় নষ্ট হচ্ছে।

হাতিরঝিল ওয়াটার ট্যাক্সির জেটি ইনচার্জ মো. জয়নাল আবেদীন জানান, প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০০ লিটার। কোনও রিজার্ভও নেই, ফলে সেবা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান করিম গ্রুপের অপারেশনস ম্যানেজার মোরশেদুল আলম বলেন, অতীতে এমন সংকট কখনও দেখা যায়নি। তেলের অভাবে ট্রিপ অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার ঝুঁকি রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস চালু হয়। গত এক দশকে এটি নগরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পরিবহন হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এখন সে সেবাই জ্বালানি সংকটে টিকে থাকার লড়াই করছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

আবারও বাড়লো জেট ফুয়েলের দাম
বাসসের নয়া এমডি কামাল উদ্দিন সবুজ
আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হবে —ইরানের প্রতি ট্রাম্প
বিসিবি বোর্ড ভেঙে এডহক কমিটি, প্রধান তামিম
প্রথমবার ইউরোপে খেলছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ কে?
হত্যাচেষ্টা মামলায় শিরীন শারমিন কারাগারে
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ক্যাপ্টেন তারেক রহমান: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
সাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল মেঘনা
আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস: স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা জরুরি
সাওদা সুমি জামিনে মুক্ত
গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
সাখাওয়াতের গ্রেফতার নিয়ে গুজব, ‘প্রমাণহীন সংবাদ’
তেল সংকটে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা বন্ধের শঙ্কা
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী
আ’লীগ নিষিদ্ধের বিল: শাস্তির বিধানসহ যা যা থাকছে
উদ্ধার অভিযানের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা?
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে চান ট্রাম্প!
সাওদা সুমির ঘটনায় ‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা