কর্মহীন সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক
এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ
আর্থিক সংকট, ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা এবং কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতার কারণে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের অন্তত ১১টি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) থেকে কারখানাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নোটিশ বোর্ডে একটি নির্দেশনা টানিয়ে দেয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে এবং তা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কোম্পানির পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ শুরু হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের এক কর্মকর্তা জানান, শুধু এ কারখানাতেই প্রায় ৫০০ জন স্থায়ী এবং প্রায় ২০০ জন অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া বাকি কারখানাগুলো মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং সহায়তা পেতে ব্যর্থ হয়। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে ধাপে ধাপে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হলেও এতদিন কারখানাগুলোর সীমিত কার্যক্রম চালু ছিলো। এবার প্রথমবারের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের অব্যাহতি দিয়ে একযোগে ১১টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার হাসমত আলী বলেন, কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেয়া হয়নি। এটি প্রায় দুই বছর ধরে চলা পরিচালনাগত ও আর্থিক সংকটের চূড়ান্ত পরিণতি।
তিনি জানান, কয়েক মাস আগেও ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মীকে প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিলো। চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে কেউ ৭ লাখ টাকা, কেউ ১৫ লাখ টাকা এবং কেউ গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য সুবিধাসহ ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন।
এস আলম গ্রুপের যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি পশুখাদ্য উৎপাদন কারখানাসহ আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে গ্রুপটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এখনও চালু রয়েছে।
এ বিষয়ে এস আলম গ্রুপের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এস আলম গ্রুপের একাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থানই নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও শিল্প উৎপাদনের ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
সৌজন্যে: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
সবার দেশ/কেএম




























