Sobar Desh | সবার দেশ বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২৩, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আপডেট: ২২:২৫, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

নোয়াখালীর রাজনীতিতে তোলপাড়

হত্যা মামলার আসামি ও এস আলমের ঘনিষ্ঠজন বিএনপির প্রার্থী

হত্যা মামলার আসামি ও এস আলমের ঘনিষ্ঠজন বিএনপির প্রার্থী
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী-৫ আসনের ভোটের সমীকরণ ছাপিয়ে এখন আলোচনায় উঠে এসেছেন এক বিতর্কিত চরিত্র। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলার আসামি এবং দেশের ব্যাংক খাতের কুখ্যাত লুটেরা এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী করায় রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

একসময়ের জামায়াত নেতা ও ইবনে সিনার রিসিপশনিস্ট থেকে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া এ ব্যক্তির প্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জুলকারনাইন সায়ের নোয়াখালী-৫ আসনের ফখরুল ইসলাম এবং চাঁদপুর-২ আসনের জালাল উদ্দিনের অন্ধকার অতীতের নানা তথ্য প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, দুর্নীতির অভিযোগ এবং হত্যা মামলার আসামিরাও অনায়াসেই বড় দলের মনোনয়ন বাগিয়ে নিচ্ছেন।

ইবনে সিনার রিসিপশনিস্ট থেকে লুটপাটের সাম্রাজ্য

মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তিনি ইবনে সিনা ক্লিনিকের একজন রিসিপশনিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ফখরুল এক সময় জামায়াতে ইসলামীর রোকন ছিলেন বলেও জানা যায়। তবে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় মূলত নব্বইয়ের দশকের শুরুতে একটি স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং ডেভেলপার ব্যবসায় প্রবেশের মাধ্যমে।

নির্ভরযোগ্য তথ্য মতে, ডা. মোকাদ্দেস আলী নামে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির ওপর ভরসা করে তিনি আবাসন ব্যবসায় নামেন। সেখানে ডা. মোকাদ্দেসের পারিবারিক সম্পত্তি ব্যবহার করে ফখরুল নিজের পকেট ভারী করেন এবং ব্যবসায়িক সঙ্গীকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে দেন। পরবর্তীতে তিনি ‘মেট্রো হোমস’ নামে নিজের প্রতিষ্ঠান চালু করেন। জামায়াত-শিবির পরিচয় ব্যবহার করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকারী প্রবাসীদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন এবং অনেককে দীর্ঘ সময় হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফারইস্ট লাইফ থেকে এস আলমের দোসর হওয়া

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ফখরুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। সেখানে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাটের সাম্রাজ্য কায়েম করলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তাকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট এবং আর্থিক খাতের শীর্ষ লুটেরা এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের সাথে হাত মেলান ফখরুল। সে সূত্রে তাকে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল আলমের অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারের অন্যতম সহযোগী ছিলেন এ ফখরুল। বিশেষ করে তুরস্কের আবাসন খাতে এস আলমের যে বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে, তার দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামি এবং বিএনপির মনোনয়ন

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালীন গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মো. আলমগীর সেখ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ফখরুল ইসলামকে অন্যতম আসামি করা হয়েছে। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তি, যিনি এস আলমের অর্থ পাচারের সহযোগী এবং হত্যা মামলার আসামি, তিনি কীভাবে নোয়াখালী-৫ আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিএনপির টিকিট পেলেন—তা নিয়ে খোদ দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০০৯ সালে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে তিনি উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। অথচ ২০২১ সালে হঠাৎ করেই কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির মাধ্যমে তিনি দলটিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী জালাল উদ্দিনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা

অন্যদিকে, চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধেও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জালাল উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এ আদেশ প্রদান করেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, জালাল উদ্দিন তার অবৈধ অর্থ নিজ ও আত্মীয়-স্বজনের ব্যাংক হিসাবে এনে বৈধ করার চেষ্টা করছেন এবং সপরিবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। জালাল উদ্দিনের স্ত্রী শাহানাজ শারমিন, দুই ছেলে সাইদ মোহাম্মদ রিজভী ও সাইদ মোহাম্মদ আলভী এবং মেয়ে আয়েশা তাসমিয়ার ওপরও এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জনগণের প্রশ্ন

জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মানুষ যখন একটি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রত্যাশা করছে, তখন বড় দলগুলোর পক্ষ থেকে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়াকে ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে এস আলমের মতো লুটেরাদের সহযোগীরা যদি রাজনৈতিক ছত্রছায়া পায়, তবে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন হোঁচট খাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে বিএনপি নেতৃত্ব এ বিতর্কিত প্রার্থীদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বহাল থাকলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

সোনারগাঁয়ে ছিনতাইকারীদের সিএনজিতে জনতার আগুন
ইরানবিরোধী হামলায় সৌদি আকাশসীমা নয়: যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা রিয়াদের
নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুঁশিয়ারি
বিমান পরিচালনা পর্ষদে সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি
একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি
পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২ বছরের মুনাফা পাবেন না
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা স্থগিত
দীর্ঘ বিরতির পর কুমিল্লায় তারেক রহমান
সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা
নাটোরের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান বাগাতিপাড়ার সামসুন্নাহার ও তৌহিদুল হক
ছাত্রীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের পলায়ন, মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ
নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার ২
মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ভারতীয় ইলিশের চালান আটক
ইরান বিক্ষোভ দমনে সফল, সরকারপন্থিদের দখলে রাজপথ
রংপুরে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যু মিছিল, সংখ্যা বেড়ে ৮
চেম্বার আদালতেও হতাশ হাসনাতের আসনের বিএনপি প্রার্থী মুন্সী
বিএনপি নেতা সাজু বহিষ্কার
তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের সাক্ষাৎ
আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দির মুক্তি
ইরানে হস্তক্ষেপ হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি উড়িয়ে দেবেন খামেনি