আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা
চিন্ময় দাসসহ ৩৯ আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ) মো. জাহিদুল হকের আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ অন্যান্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিকে ঘিরে পুরো আদালতপাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় আদালত এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে।
এ ঘটনায় নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও পাঁচটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর উসকানি ও নির্দেশেই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামি রিপন দাস বঁটি দিয়ে আলিফের ঘাড়ে পরপর দুটি কোপ দেন এবং চন্দন দাস কিরিচ দিয়ে আঘাত করেন। এরপর সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা আলিফকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে নিশ্চিতভাবে হত্যা করা হয়।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওই মামলার বাদী হওয়ায় ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ২৫ নভেম্বর ঢাকার একটি এলাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে জামিন শুনানিকে ঘিরেই ঘটে যায় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণের রক্তক্ষয়ী এ হত্যাকাণ্ড।
সবার দেশ/কেএম




























