Sobar Desh | সবার দেশ কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:১৩, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি পেতে নিজ দেশে ফেরার দাবি 

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের গণসমাবেশ

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের গণসমাবেশ
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি পেতে নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ও নিজ দেশে ফেরার দাবিতে গণসমাবেশ করেছে। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ১ নম্বর ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুবকদের সংগঠন ‘ইসলামি মাহাসা’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে উক্ত গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গণসমাবেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গা যুবক, আলেম ওলামা ও সাধারণ রোহিঙ্গারা অংশগ্রহণ করেন। বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠনের যুবকেরা সমাবেশে অংশগ্রহণ করে নিজ দেশে ফিরে যেতে নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশে ‘ইসলামি মাহাসা’ নামের সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা ডা. জোবায়ের বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশ মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে ফিরে যেতে প্রস্তুত। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ হবে। রোহিঙ্গাদের দাবিসমূহ মিয়ানমার সরকার মেনে নিলে আমরা ফিরে যাব।

ডা. জোবায়ের তার বক্তব্যে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সম্প্রতি মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে আরাকান আর্মির শক্তিশালী অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। সে সঙ্গে মায়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর যে গণহত্যা চালিয়েছিল তার সঠিক ও ন্যায় বিচার আশা করেন।

রোহিঙ্গা নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা দ্রুত করার জন্য জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান করেন।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের দাবিগুলো নিশ্চিত করা হলে আমরা স্বেচ্ছায় মিয়ানমার চলে যাব। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে সারা জীবন থাকার জন্য আসেনি। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নিয়েছে, থাকার জন্য জমি দিয়েছে, ঘর দিয়েছে, খাবারের ব্যবস্থা করেছে। নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। আমরা (রোহিঙ্গারা) বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের কাছে সারাজীবন ঋণী হয়ে থাকব।

গণসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, রোহিঙ্গা নেতা মাওলানা রাহমত করিম, মাওলানা জহির আহমেদ, কাওয়ালি হামিদ, মাওলানা আব্দুর রশিদ, মাওলানা দিল মোহাম্মদ ও অসংখ্য রোহিঙ্গা আলেম ওলামা এবং যুবকেরা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি সিরাজ আমিন রোহিঙ্গাদের সমাবেশের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে রোহিঙ্গাদের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে এ সমাবেশ করেছেন বলে জানান এপিবিএনের এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে এবং নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসান চরে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাত ও সহিংসতার জেরে আরো ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির এবং সীমান্তের নানা স্থানে অবস্থান করছে।   

সবার দেশ/এওয়াই

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

১৬ ইউনিটেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ওষুধ কারখানার আগুন
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট
ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা