কালুরঘাট সেতুতে দুর্ঘটনার কবলে ট্রেন: বহু হতাহতের শঙ্কা
চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর ওপর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে গেছে একাধিক সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও পিকআপ ভ্যান। কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৩ জন নিহত ও ১০ জন আহত গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর বোয়ালখালী অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিগন্যাল অমান্য করে গাড়িগুলো সেতুর ওপর উঠে পড়ায় চলন্ত ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় গাড়িগুলো দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম তুষার (৩০), যিনি একটি অটোরিকশা চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহত পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আসিফ উদ্দিন বাপ্পি, আসমা আহমেদ এবং আঞ্জু আরা। বাকিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পাঁচজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল ছিলো, যেগুলোর কয়েকটি ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার আমিনুল ইসলাম জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে আমরা খবর পাই। আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের উদ্ধারে কাজ চলছে।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় একজন যুবক একটি শিশুর নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। তবে সে শিশুটি নিহত কিনা—তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।
উল্লেখ্য, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ কালুরঘাট সেতুটি দিয়ে এখনো যানবাহন ও ট্রেন চলাচল করছে। নিয়মিতই এখানে ট্রাফিক সংকট ও সিগন্যাল অমান্য করে চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। আজকের ভয়াবহ দুর্ঘটনা নতুন করে সে নিরাপত্তা প্রশ্ন তুলে দিল।
দুর্ঘটনার তদন্ত ও সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























