খাগড়াছড়িতে চতুর্থ দিনেও অবরোধ, ১৪৪ ধারা বহাল
পাহাড়ি এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার জেরে উত্তপ্ত খাগড়াছড়িতে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সর্বত্র বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চতুর্থ দিনে গড়াল। যদিও সংগঠনটির পক্ষ থেকে সোমবার দুপুরে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়কে অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তবুও যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সংঘটিত ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে গত রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুইমারায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনজন পাহাড়ি নিহত হন এবং এক সেনা কর্মকর্তাসহ বহু পাহাড়ি ও বাঙালি আহত হন। গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠী একে অপরকে দায়ী করছে।
মঙ্গলবার সকালেও খাগড়াছড়ি শহর ও গুইমারার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়। সীমিত সংখ্যক ইজিবাইক ছাড়া সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে; বিজিবি ও পুলিশও সর্বত্র মোতায়েন আছে।
গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, রবিবার নিহত তিন পাহাড়ির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং রাতেই দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি আছে। জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ নির্দেশনা তুলে নেওয়া হবে।
এদিকে, সোমবার আন্দোলনরত জুম্ম ছাত্র-জনতার ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে তারা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারসহ আট দফা দাবি পেশ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও সমঝোতা হয়নি।
অন্যদিকে, সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি সেনানিবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ ইউপিডিএফকে দায়ী করে বলেন, ‘ধর্ষণ ঘটনাকে পুঁজি করে সাধারণ পাহাড়ি নারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দিচ্ছে সংগঠনটি। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও অটোমেটিক অস্ত্র ব্যবহার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নানা অপপ্রচার ও উসকানির মধ্যেও সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ ইউপিডিএফকে উদ্দেশ করে তিনি দেশের স্বার্থে অবরোধ প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানান।
সবার দেশ/এফএস




























