Sobar Desh | সবার দেশ নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:২১, ৬ অক্টোবর ২০২৫

আপডেট: ০২:২৩, ৬ অক্টোবর ২০২৫

আতঙ্কে তিস্তাপারের মানুষ, হু হু করে বাড়ছে পানি

আতঙ্কে তিস্তাপারের মানুষ, হু হু করে বাড়ছে পানি
ছবি: সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা। নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় তীরবর্তী মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন।

রোববার (৫ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে। পানির প্রবল চাপের কারণে তিস্তা ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

উজান থেকে নেমে আসছে পাহাড়ি ঢল

পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের দার্জিলিং ও কালিম্পং এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে এসেছে তিস্তা অববাহিকায়। এর ফলে হু হু করে বাড়ছে নদীর পানি। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিকেল পর্যন্ত পানি ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু সন্ধ্যার পর হঠাৎ দ্রুতগতিতে তা বাড়তে থাকে।

পূর্ব ছাতনাইয়ের বাসিন্দা হাসানুর রহমান বলেন, 

বিকেলে পানি ছিলো কোমর পর্যন্ত, এখন ঘরের ভেতর পর্যন্ত ঢুকে গেছে। জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছি।

আরেক বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন জানান, তিস্তার পানি ঘরে ঢুকে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে যাচ্ছি, সবকিছু ডুবে যাচ্ছে চোখের সামনে।

প্রশাসনের তৎপরতা

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, 

উজানের ঢল আর ভারী বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। রাতে পানি আরও বাড়তে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, 

সন্ধ্যার পর থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতের মধ্যে তা আরও বেড়ে ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছে। পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তার পানি বেড়ে একটি বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছিলো, সেটি তাৎক্ষণিক মেরামত করা হয়েছে। তবে অনেকের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া ও শুকনো খাবার বিতরণের কাজ চলছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তিস্তার পানি যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হবে।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

অর্ধেকেরও কম খরচে চীনের জে-১০ নিচ্ছে বাংলাদেশ
মব অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মেসির বিদায়ে আবেগঘন আন্তোনেলা
লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
কানাডার পার্লামেন্টের এমপি বাংলাদেশি তানভীর
ভারতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১১; রেল চলাচল বন্ধ
নভেম্বরে যোগ হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ!
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধে মার্কিন সেনাপ্রধানের পদত্যাগ
ফিল্মি কায়দায় নববধূ ‘ছিনতাই’! যা বললেন কনে তামান্না
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, সামনে ১০ চ্যালেঞ্জ
ঢাবির মেয়েদের হল বন্ধ রাত ১১টায়
নবম পে-স্কেল অনুমোদন: কার বেতন কত
নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি
জামালপুরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ৪
ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর
শিল্প কোনও পাপ নয়: প্রভা
মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রা
দেশে প্রথম রোবটিক সার্জারি, প্রথম দিনে ২ রোগীর অস্ত্রোপচার
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে গুডবাই বললেন মেসি
পূজার আগেই পাকিস্তানের হামলার প্রস্তুতিতে শঙ্কিত ভারত