পরিবহন শ্রমিকের গায়ে ধাক্কার জের
ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ
একটি ধাক্কাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। শ্রমিক গ্রেফতার ও পরবর্তী সংঘাতের জেরে দ্বিতীয় দিনের মতো ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা—ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোণা—থেকে ঢাকাগামী সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাতে হালুয়াঘাটের জুলাইযোদ্ধা আবু রায়হান বাসে ওঠার সময় পরিবহন শ্রমিক অরুণ ঝন্টুর গায়ে হালকা ধাক্কা লাগায়। রায়হান সঙ্গে সঙ্গে দুঃখপ্রকাশ করলেও অরুণ ঝন্টু তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও কটূক্তি করে এবং বাস থেকে নামিয়ে দেন।
এর প্রতিবাদে রাত ৯টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় ইউনাইটেড সার্ভিসের কাউন্টারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ পরে শ্রমিক অরুণ ঝন্টুকে আটক করে।
এর পরদিন শনিবার সকাল ১১টা থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা পাল্টা বিক্ষোভে নামে। তারা শহরের বাইপাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করে, ফলে ঢাকাগামী সব বাস সেখানে আটকে পড়ে। বিপরীত দিক থেকে ঢাকামুখী বাসও একইভাবে আটকে যায়, সড়কে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন, অনেকে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিলো—অরুণ ঝন্টুর বিচার, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ সাগর হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক শামীমকে গ্রেফতার, এবং তার মালিকানাধীন ইউনাইটেড সার্ভিসের সব বাস বন্ধ রাখা। অপরদিকে শ্রমিকরা দাবি তোলে আটক সহকর্মীর মুক্তি ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের।
দিনভর উত্তেজনার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উভয় পক্ষের নেতাদের মধ্যে আলোচনায় সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, আমিনুল হক শামীমের মালিকানাধীন ১৬টি বাস চলবে না। এরপর ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মাসকান্দা এলাকা থেকে সরে যান, শ্রমিকরাও অবরোধ তুলে নেয়। আটকে থাকা বাসগুলো তখন গন্তব্যের পথে রওনা দেয়।
তবে রাতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ময়মনসিংহের ইউনাইটেড পরিবহনের প্রতিনিধি দল ঢাকার মহাখালী অফিসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে নির্দেশ আসে—ইউনাইটেড ও সৌখিন পরিবহনের সব বাস আপাতত না চালানোর। ফলে রোববার সকাল থেকেই ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, দুই পক্ষের বিরোধে ভুগছেন তারা। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও কেউ ঢাকায় যেতে পারছেন না। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে ট্রেন ও ভাড়াচালিত মাইক্রোবাসে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বলছে, আলোচনা চলমান রয়েছে। তারা আশা করছে, উভয় পক্ষের সমঝোতার মধ্য দিয়ে দ্রুতই ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
সবার দেশ/কেএম




























