সরেজমিন তদন্ত চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন
ইউক্যালিপটাস রোপণে কৃষিজমির পরিবেশ হুমকিতে
গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি কৃষিজমির পরিবেশ ও কৃষি ভারসাম্য রক্ষায় আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস গাছ রোপণের অভিযোগ তুলে সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক কৃষক।
আবেদনকারী মো. মুনির হাসান জানান, তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি এলাকার গোঘাট গ্রামের বাসিন্দা। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত খতিয়ান নম্বর ৯২৭, দাগ নম্বর ১৫৪৪, হোল্ডিং নম্বর ৯২৬, মৌজা খোদ মালিবাড়ী এলাকার ৪৮ শতাংশ ডাঙ্গা (কৃষি) জমি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধের মাধ্যমে জমিটি চাষাবাদে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ওই খতিয়ানের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ৯ শতাংশ ডাঙ্গা জমির মালিক মো. আশরাফুল ইসলাম (চায়না) চলতি মৌসুমে তার জমিতে আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস গাছের চারা রোপণ করেছেন। অথচ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আবেদনকারী আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৫ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন-১ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয় এবং ১৬ জুন তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এতে স্পষ্টভাবে আগ্রাসী প্রজাতির এসব গাছ পরিবেশ ও কৃষির জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেই নয়, মো. আশরাফুল ইসলাম প্রধান সড়কের দুই পাশে সরকারি উদ্যোগে পূর্বে রোপণ করা ইউক্যালিপটাস গাছের পাশাপাশি সরকারি রাস্তার সীমানা ব্যবহার করে অতিরিক্ত জায়গা দখলের আশঙ্কায় পরিবেশবিরোধী ইউক্যালিপটাস গাছের সারি রোপণ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এটি আইনগতভাবে বৈধ নয় এবং ভবিষ্যতে সরকারি জমি আত্মসাতের চেষ্টা হতে পারে বলে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আবেদনকারী জানান, গাছ রোপণের আগেই তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো সাড়া না দিয়ে দুটি জমির আইল বা সীমানার মাঝ বরাবর মাটি ভরাট করে বেড়া স্থাপন করেন। এর ফলে তার নিজের জমিসহ আশপাশের কৃষকদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিকাজে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জমি ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান এবং পরিবেশ ও কৃষিজমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনের অনুলিপি সহকারী কমিশনার (ভূমি), পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কৃষিজমির পাশে আগ্রাসী প্রজাতির গাছ রোপণ শুধু পরিবেশের ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা ও ফসল উৎপাদনকেও হুমকির মুখে ফেলছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
সবার দেশ/কেএম




























