গাইবান্ধার ৭ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ভ্যাকসিনেশন অভিযান
গাইবান্ধা সদরসহ জেলার সাতটি উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে তড়কা (অ্যানথ্রাক্স) রোগ। শুধু পশু নয়, ইতোমধ্যে প্রায় ১২ জন মানুষের শরীরেও এ রোগের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর তৎপর হয়ে মাঠপর্যায়ে জরুরি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গবাদিপশুর এই প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার ঠেকাতে প্রতিটি উপজেলায় টিকা প্রয়োগ ও সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। গ্রামের প্রান্তিক খামারিদের দোরগোড়ায় গিয়ে পশুতে অ্যানথ্রাক্স প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে খামারি ও সাধারণ মানুষকে রোগের উপসর্গ, প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাতটি উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে পলাশবাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে একযোগে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মহেশপুর গ্রামে স্থাপন করা অস্থায়ী ক্যাম্পেইন মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদান কার্যক্রমে সরেজমিন উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন,
তড়কা বা অ্যানথ্রাক্স গরুর একটি জটিল রোগ। আক্রান্ত গরু বা মানুষের শরীরে প্রথমে ছোট ছোট গুটি বা ফোস্কা পড়ে, যা ধীরে ধীরে কালচে বর্ণ ধারণ করে ও ক্ষত তৈরি করে। এতে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দেখা দিতে পারে এবং শরীরে জ্বরের লক্ষণও থাকে। তবে সময়মতো চিকিৎসা ও টিকা দিলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
ডা. রাজ্জাক খামারিদের উদ্দেশে আরও বলেন,
রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনোভাবেই মৃত পশুর মাংস বা চামড়া ব্যবহার করা যাবে না। সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে।
এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশীদ, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাঠপর্যায়ে টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিদর্শন ও লিফলেট বিতরণ করেন।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এ ভ্যাকসিনেশন অভিযানের আওতায় প্রতিদিন শতাধিক গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিষেধক টিকা দেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের আশা, নিয়মিত টিকা ও সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
সবার দেশ/কেএম




























