গাইবান্ধার ঘাঘট নদীতে শিক্ষিকার লাশ!
গাইবান্ধায় ঘাঘট নদীর নতুন ব্রীজের নিচে থেকে গাইবান্ধা এন, এইচ মর্ডান সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের তাসমিন আরা নাজ (৪৩) নামের এক শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাঘট নদীর পূর্ব কোমরনই এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত তাসমিন আরা নাজ এর বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের পূর্ব কোমরনই মিয়াপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার মরহুম নাজির হোসেনের মেয়ে। তিনি গাইবান্ধা এন, এইচ মর্ডাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে স্থানীয়রা নদীতে গোসল করতে গিয়ে একটি লাশ দেখতে পায়। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের মা মোছা. হাসনা হেনা বেগম তার মেয়ে তাসমিন আরার লাশ বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন থেকে তাসমিন আরা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। আজ সকালে সবার অজান্তে নদীতে এসে নামে। পরে তার লাশ পাওয়া যায়।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, তাসমিন আরা নাজ দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। এলাকার মানুষের কাছে তিনি একজন ভালো স্কুল শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তিনি জেলা শহরের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে তাসমিন আরা নাজের বিয়ের আলাপ চলছিলো। তার বয়স প্রায় ৪৩ বছর হলেও ওই শিক্ষিকা বিয়েতে রাজি ছিলেন না। ওই শিক্ষিকার মৃত্যু রহস্যজনক বলে স্থানীয়দের দাবী এবং একটি সূত্রের মারফতে জানা গেছে স্কুলে নিয়মিত সময় দিলেও তিনি বেশ কিছুদিন ধরে কিছুটা হতাশাগ্রস্থ ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবু ইকবাল পাশা জানান, নিহতের পরিবার জানিয়েছে প্রায় ১০ বছর থেকে তাসমিন আরা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। লাশ বিকালে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলমান আছে। ঘটনার রহস্য অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান গাইবান্ধা সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবু ইকবাল।
সবার দেশ/কেএম




























