রাশিয়ার এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট অক্ষত
রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে দেশটির অত্যাধুনিক এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স। দুর্ঘটনায় যুদ্ধবিমানটির পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এতে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
এসইউ-৩০ রাশিয়ার তৈরি বহুমুখী যুদ্ধবিমান। আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি ভূমিতে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এ ধরনের যুদ্ধবিমান রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনও কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরের মধ্যেই ফ্রান্সে সামরিক বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ম্যুরথ-এ-মোজেল এলাকায় মঙ্গলবার একটি মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং অপর একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে দুজন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। অপরজনের সন্ধানে কী ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির তথ্য অনুযায়ী, ন্যান্সি-ওশে বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালিত যুদ্ধবিমানটি মঙ্গলবার রাতে ন্যান্সি শহরের কাছে ম্যুরথ-এ-মোজেল এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করে।
ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনও কারণ ছিলো কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একই সময়ে রাশিয়া ও ফ্রান্সে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দুটি দেশের বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুটি দুর্ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স, ইন্টারফ্যাক্স।
সবার দেশ/কেএম




























