Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১৫, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০০:১৭, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিরোধীদের ওপর গোয়েন্দাগিরির বার্তা বিপজ্জনক: হাসনাত

বিরোধীদের ওপর গোয়েন্দাগিরির বার্তা বিপজ্জনক: হাসনাত
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর নজরদারি চালানোর বার্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)। তার অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার এমন প্রবণতা ফ্যাসিবাদী শাসনের বৈশিষ্ট্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ, কার্ডের দাম এবং তথ্যভান্ডার তৈরির ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এসব প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এ সংসদ সদস্য।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের ওপর নজরদারি চালানোর ঘোষণা দিতে পারেন কি না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে, নাকি দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করার সংস্কৃতি অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের কথা মনে করিয়ে দেয়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো এবং নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার বিপজ্জনক প্রবণতা। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অপব্যবহারের গভীরতর বার্তা দেয়।

কার্ড বিতরণ কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, বিভিন্ন রঙের কার্ড ছাপানো ও বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে নানা অনিয়মের কথা শোনা গেলেও সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি।

কার্ড কেনায় ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি এড়িয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা ডিপিএম অনুসরণের অভিযোগ তুলেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার দাবি, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বড় প্রকল্পে উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ব্যবহারের প্রবণতার কথা উঠে এসেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আন্তঃবাহিনী পরিচালিত বিএমটিএফের মতো প্রতিষ্ঠানকে সামনে রাখা হচ্ছে। অথচ এর আড়ালে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থকে সুবিধা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কার্ডের দাম প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিক কার্ডের দাম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। বিপরীতে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ডের ক্ষেত্রে প্রতিটির ব্যয় ৩০০ থেকে ৩৬৫ টাকা পর্যন্ত হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ ছাড়া তথ্যভান্ডার তৈরির নামে ২ হাজার ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েও আপত্তি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তার অভিযোগ, কার্ড কেনা ও তথ্যভান্ডার তৈরির ব্যয়ের মধ্যে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিকল্প তথ্যভান্ডার তৈরির প্রস্তাব

দারিদ্র্যপীড়িত ও নিম্ন আয়ের মানুষের তথ্যভান্ডার তৈরির জন্য নতুন করে বড় অঙ্কের প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো নিয়মিতভাবে দেশের মানুষের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ করে। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তথ্য, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাসের বিল, মোবাইল ফোনে রিচার্জের তথ্য, ক্ষুদ্রঋণের উপাত্ত এবং খানা আয়-ব্যয় জরিপ কাজে লাগিয়ে দরিদ্র মানুষের তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব।

তার মতে, বিদ্যমান তথ্য ও সরকারি ব্যবস্থাপনা কাজে লাগিয়ে কম ব্যয়ে একটি কার্যকর তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ এবং ২ হাজার ১০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ডের প্রচার-প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সক্রিয় থাকায় এসব প্রকল্পের বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই—এমনটি মনে করার কারণ নেই। কার্ড কেনার নামে সম্ভাব্য অনিয়মের দায় থেকে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তার মতে, মানুষের কাছে সরকারি ভাতা পৌঁছে দিতে ব্যয়বহুল প্লাস্টিক কার্ডের পরিবর্তে একটি স্বয়ংক্রিয় ও দীর্ঘস্থায়ী তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তথ্যভান্ডার কে হালনাগাদ করবে, কীভাবে এর নির্ভুলতা বজায় থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে—এসব প্রশ্নেরও সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান

পোস্টে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিলো। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এনসিপির এ নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে অনিয়ম হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে রাজনৈতিক অপব্যবহার থেকে দূরে রাখার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিলো, তা বজায় রাখা জরুরি। কোনও রাজনৈতিক দল বা সরকারের স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা সামরিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হলে তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, 

বাংলাদেশ আরেকটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিজ্ঞতা বহন করার সামর্থ্য রাখে না। এ কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জনগণের, কোনও দলের নয়

পোস্টের শেষাংশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কোনও ক্ষমতাসীন দলের সম্পত্তি নয়। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে।

সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সব নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, দেশের স্বার্থের পরিবর্তে কোনও রাজনৈতিক দলের সংকীর্ণ স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হলে তা জনগণের অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

সবার দেশ/এফও

শীর্ষ সংবাদ:

কণ্ঠ বদলে গেছে সেলেনা গোমেজের, কারণ জানালেন শিল্পী
৩৩ গোলের দাপটে মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
শার্শায় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শনের অভিযোগ
কম্বোডিয়ার বন্দিদশা থেকে মুক্তি, দেশে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
প্যারিসে ২৩ মণ্ডপে দুর্গোৎসব, সম্প্রীতির মিলনমেলা
মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর, আজ বিসর্জনে শেষ দুর্গোৎসব
কৃষক কার্ডে জানা যাবে বৃষ্টির আগাম পূর্বাভাস: প্রধানমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে ‘তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা’ নীতি ত্যাগ করছে যুক্তরাষ্ট্র!
বিরোধীদের ওপর গোয়েন্দাগিরির বার্তা বিপজ্জনক: হাসনাত
জামিনে বেরিয়ে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিককে হত্যার হুমকি
ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো, কাজ নেগেটিভ নয়: জামায়াত আমির
সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে: প্রধানমন্ত্রী
ভাড়া বাসায় মাদকের আসর, প্রত্যাহার অতিরিক্ত ডিআইজি জহির
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ দেশের সন্তান: প্রধানমন্ত্রী
ইতালিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১৪১ পুলিশ আহত
রাষ্ট্রপতির বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার ও ব্যাখ্যা দাবি জমিয়তের
শৈশবের পূজার স্মৃতি আজও অমলিন মন্দিরার
ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩ সেনা
কক্সবাজারে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতি, লুটের শিকার ৬০ যানবাহন
যশোর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন যেন দুর্বোধ্য ধাঁধা!
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১৫ হাজার কেজি লাল চিনি জব্দ
কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা ও দোয়া
লাইভে প্রার্থনার সময় ক্রুশ ভেঙে যাজকের মৃত্যু
ইশরাকের স্ত্রীর রহস্যজনক পোস্ট, উদ্ধৃতি মার্টিন লুথার কিংয়ের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের অপেক্ষায় দেশবাসী: নাহিদ ইসলাম
বনানী থেকে ফের গ্রেফতার দিলীপ আগারওয়ালা