গুমের মামলায় হেফাজতে থাকা
১৫ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত গুম-খুন এবং জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে হাজির করা হয়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে শুরু হয় এ কার্যক্রম। পরে সকাল ১০টার দিকে ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপর শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কতজন কর্মকর্তাকে আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
এ তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ১৭ জন, আরেকটিতে ১৩ জন এবং তৃতীয়টিতে চারজন আসামি আছেন। শেখ হাসিনার নাম রয়েছে দুটি মামলার আসামির তালিকায়। ২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন।
রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন, পল্টন, হাইকোর্ট মাজারগেট ও ট্রাইব্যুনাল চত্বর ঘিরে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরের দিন ধার্য করা হয়েছে বুধবার। তারা হাজির না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আর যদি তারা হাজির হন এবং ট্রাইব্যুনাল জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন, তবে কোন কারাগারে রাখা হবে, তা নির্ধারণ করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা কর্তৃপক্ষ।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক ঘরানার অসংখ্য ব্যক্তিকে গুম করে টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই)–এর গোপন স্থানে আটকে নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। গত ৮ অক্টোবর এ অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন।

একই দিন জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন স্থানে গুম–নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এছাড়া জুলাই–আগস্ট আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলাটি দাখিল করা হয়।
সব মিলিয়ে তিনটি মামলায় মোট ২৫ সেনা কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯ অক্টোবর সেনা সদর থেকে জানানো হয়, ১৫ জন কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউশন পক্ষের প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে শুনানি করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং বুধবারের মধ্যে হাজিরের নির্দেশ দেয়।
সবার দেশ/কেএম




























