‘আমি পালাইনি, আত্মসমর্পণ করবো’—ডন
সালমান শাহ হত্যা: সামিরা ও ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে করা মামলাটি এখন নতুন মোড়ে। তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও অভিনেতা-খলনায়ক ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রমনা মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রমনা থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার জানান, আসামিরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন এবং পালিয়ে গেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বাধা সৃষ্টি হবে। তাই আদালতের কাছে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পরদিন রাতেই সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরদিন আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। পরের বছর, ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের আবেদন করা হয়।
এরপর দীর্ঘ দুই দশকের আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে একাধিকবার সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পিবিআই প্রতিবেদন দিয়েছে। সব প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পরিবার সে প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ধারাবাহিকভাবে পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
অবশেষে ২০২২ সালে পিবিআইয়ের তদন্তে মামলা নিষ্পত্তি হলেও গত ২০ অক্টোবর আদালত সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম নতুন মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা ডন জানালেন তিনি আত্মগোপনে নেই। তার ভাষায়—
সবাই বলছে আমি নাকি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ৩০ বছর পালাইনি, এখন পালাবো কেনো? আমি বাসাতেই আছি। দু-এক দিনের মধ্যে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবো। কারণ ৩০ বছর ধরে যন্ত্রণা ভোগ করছি—এর একটা সুরাহা দরকার।
স্মৃতিচারণ করে ডন বলেন, চলচ্চিত্রকে ভালোবেসেই ঘর ছেড়েছিলাম। সালমানের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে মনে হয়েছিলো জীবনের বড় প্রাপ্তি। কিন্তু সে ভালোবাসার কারণেই আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে। সালমানকে ভালোবেসেই আমি জীবনের ঝড় মেনে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সালমান শাহকে ভালোবেসে অনেকে আত্মহত্যা করেছে, আমি করিনি—এটাই কি আমার অপরাধ? আমি বিশ্বাস করি একদিন সত্য প্রকাশ হবে, তবে আমি সেটা দেখে যেতে পারবো কি না জানি না।
মৃত্যুর আগে সালমানের সঙ্গে শেষ দেখা নিয়ে ডন জানান, ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরেছিলাম। সালমান বলেছিলো, পরিচালক শিবলী সাদিক ভাইকে জানাতে যে সে ৩ সেপ্টেম্বর শুটিংয়ে আসবে। আমি খবরটা দিয়ে বগুড়া যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ধর্মঘটের কারণে যেতে পারিনি। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর সকালে শুনি, সালমান শাহ আর নেই।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন সালমান শাহ। তার মৃত্যুতে এখনও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে এক গভীর রহস্য—যা তিন দশক পরও মুছে যায়নি।
সবার দেশ/কেএম




























