ইন্ডিয়া হ্যাবিটেট সেন্টারে শততন্ত্রী বীণায় মোহিত দর্শক
গত ২৮ জানুয়ারি দিল্লির ইন্ডিয়া হ্যাবিটেট সেন্টারে অনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় যন্ত্রসঙ্গীতের আসর ‘বৈঠক’-এ শততন্ত্রী বীণার মুগ্ধকর পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন। ওমকারনাথ মিশন পরম্পরা ও লিজেন্ডস অব ইন্ডিয়ার যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে শততন্ত্রী বীণায় পরিবেশন করেন পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী। শুরুতে তিনি রাগ কল্যাণে ধ্রুপদী আঙ্গিকে বিস্তৃত আলাপ ও জোড় পরিবেশন করেন। ধীরস্থির মেজাজে রাগের মাধুর্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় তার সুরে।

দ্বিতীয় পর্বে তিনি রাগ ইমন কল্যাণে তিনটি বন্দিশ পরিবেশন করেন। এর মধ্যে বিলম্বিত মাসিদখানি গৎ ও একতালে মধ্যলয়ের গৎ ছিলো তার নিজস্ব সৃষ্ট রচনা। পরিবেশনার সমাপ্তি টানেন আলাউদ্দিন খাঁনি দ্রুত গৎ দিয়ে।
পরিবেশনের শুরুতে পন্ডিত দিশারী রাগ কল্যাণ ও ইমন কল্যাণের পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিল্পী এ দুই রাগকে প্রায় একই রূপে পরিবেশন করেন। অথচ বাবা আলাউদ্দিন খাঁ এ দুই রাগকে সম্পূর্ণ আলাদা স্বরূপে শিক্ষা দিতেন। শাস্ত্রে তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য উল্লেখ থাকলেও সময়ের সঙ্গে এর সঙ্গীতিক উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শততন্ত্রী বীণার গভীর ও ধ্যানমগ্ন সুরে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা যেন স্তব্ধ হয়ে যান। নির্ধারিত সময় শেষে বাজনা থামতেই ধ্যানমগ্ন পরিবেশ ভেঙে মুহূর্তেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। দর্শক সারি থেকে আরও কিছুক্ষণ পরিবেশনের অনুরোধ এলেও সময়সীমার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময়ের পরিবেশনার আশ্বাস দিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন শিল্পী।
এদিন তবলায় সঙ্গত করেন শ্রী সৌরভ গুহ এবং তানপুরায় ছিলেন ড্রিমি নাইস। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাঁশিতে শ্রী কার্তিকায় বশিষ্ঠ এবং হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে শ্রী অলিক সেনগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























