যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি ক্ষোভ
ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে উত্তাল ইসরায়েল
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলে থামছে না জনঅসন্তোষ। তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে এবং ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। আদালতের বেঁধে দেয়া সীমা অতিক্রম করে হাজারো মানুষ শনিবার হাবিমা স্কয়ারে সমবেত হয়ে যুদ্ধের অবসান, দুর্নীতির বিচার এবং বিতর্কিত নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সমাবেশে অন্তত দুই হাজার মানুষ অংশ নেয়, যদিও সুপ্রিম কোর্ট নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার মানুষের অনুমতি দিয়েছিলো। আয়োজকদের দাবি, তেল আবিবজুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এবার পুলিশ তুলনামূলক সংযত থাকলেও পুরো এলাকায় ছিলো কড়া নিরাপত্তা।

টানা ষষ্ঠ সপ্তাহ ধরে চলা এ আন্দোলনে বামপন্থী দল, শান্তিকামী সংগঠন ও সরকারবিরোধী জোট একত্রিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ—সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে দেশে ‘চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থা’ তৈরি করছে এবং এর আড়ালে বিচারব্যবস্থা দুর্বল করার আইন পাস করছে।
সমাবেশে আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক জোট হাদাশের নেতা আয়মান ওদেহ বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইহুদি-আরব ঐক্যের বিকল্প নেই। তিনি বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর নৈতিক বিকল্প দাঁড় করাতে পারেনি।

একই দাবিতে জেরুজালেম ও হাইফাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জেরুজালেমে ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগে তিনজন আটক হলেও পরে জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান। আদালতও পর্যবেক্ষণে বলেছে, কেবল নির্ধারিত সংখ্যা ছাড়ালেই বিক্ষোভ ভাঙা যাবে না—বিশেষত হাবিমা স্কয়ারের নিচে বড় আশ্রয়কেন্দ্র থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি সীমিত।
যুদ্ধবিরতির পর শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল হলেও উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে হাইফা এলাকায়, হিজবুল্লাহ সীমান্ত উত্তেজনার কারণে এখনও কড়াকড়ি বহাল রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
সবার দেশ/কেএম




























