নিশ্চিত করল হোয়াইট হাউস
ইরানের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে জেডি ভ্যান্স
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এ বৈঠককে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এ বৈঠক এখনও চলমান রয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের পর ঘোষিত দুই সপ্তাহের অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিলো, দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হবে এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে। তবে শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক অগ্রগতির ফলে দুই পক্ষ সরাসরি মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে। বৈঠকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।
অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক।
বৈঠকের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি এবং আলোচনা সফল করার কৌশল নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সরাসরি বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইসলামাবাদের এ আলোচনা শুধু যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ স্থায়ী সমঝোতার ভিত্তিও তৈরি করতে পারে। এখন নজর রয়েছে—এ ঐতিহাসিক বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে এবং তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।
সবার দেশ/কেএম




























