যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ইসরায়েলের, ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলো ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলার প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সাময়িকভাবে প্রণালিটি খুলে দেয়া হলেও লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু হতেই তা আবার বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ সংকটের পেছনে রয়েছে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি। শাহবাজ শরিফ, যিনি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন, দাবি করেছিলেন—চুক্তির আওতায় লেবাননও রয়েছে এবং হিজবুল্লাহ-এর ওপর হামলাও বন্ধ থাকার কথা।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ ব্যাখ্যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি কেবল ইরান-এর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। সে অবস্থান থেকেই তারা ‘যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড়’ সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়।
এর জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর সঙ্গে জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে ইরান চুক্তি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়িয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছিলো ইরান। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিলো। কিন্তু নতুন করে প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে কয়েকশ তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভারত মহাসাগর অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনাই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























