প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্নতার মেলবন্ধন
জাপানি টয়লেট শুধুই কী বিলাসিতা?
জাপানে টয়লেট আর শুধু দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর স্থান নয়, এটি এখন প্রযুক্তি ও আরামের এক অসাধারণ সমন্বয়। ‘ওয়াশলেট’ বা ‘বিডেট ফাংশন টয়লেট’ নামে পরিচিত এ টয়লেটগুলো টোটো (TOTO), ইনাক্স (INAX)-এর মতো নামকরা কোম্পানির উদ্ভাবন, যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ও টয়লেটগুলোতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ফ্লাশ সেন্সর, যা ব্যবহারকারীর ওঠা-নামার ভিত্তিতে কাজ করে, কোনো বাটন চাপার প্রয়োজন ছাড়াই। এছাড়া, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা বিডেট স্প্রে অপশন, গরম-ঠাণ্ডা পানির সুবিধা এবং স্প্রের গতি ও দিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। শীতের সময় ঠাণ্ডা সিটের অসুবিধা দূর করতে উষ্ণ আসন (হিটেড সিট) ব্যবস্থা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের আরাম দেয়।
একটি বিশেষ ফিচার হলো ‘সাউন্ড প্রিন্সেস’, যা ফ্লাশের মতো শব্দ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের লজ্জা থেকে মুক্তি দেয়। স্বয়ংক্রিয় ডিওডোরাইজার ও বায়ু বিশুদ্ধিকরণ ফ্যান দুর্গন্ধ দূর করে পরিবেশকে সতেজ রাখে। প্রিমিয়াম মডেলগুলোতে ঢাকনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলে ও বন্ধ হয়। এসব ফিচার নিয়ন্ত্রণের জন্য রিমোট কন্ট্রোল প্যানেল রয়েছে, যেখানে জাপানি ও ইংরেজি ভাষার অপশন পাওয়া যায়।
জাপানি সংস্কৃতিতে পরিচ্ছন্নতার প্রতি গভীর গুরুত্ব দেয়া হয়, তাই ব্যক্তিগত এ স্থানেও প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ পরিষ্কার ও আরাম নিশ্চিত করা হয়। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এ টয়লেটগুলো জীবনকে আরও সহজ করে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টোটো চীনের শাংহাই ও বেইজিংয়ে তাদের কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রযুক্তি সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও জোরদার করছে।
টোটোর একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা শুধু বিলাসিতার জন্য নয়, বরং ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যবিধি ও আরাম নিশ্চিত করতে কাজ করছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি টয়লেট শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং মানবিক চাহিদা ও পরিবেশবান্ধব সমাধানের একটি প্রতীক। এ টয়লেটগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে, যা জাপানের উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রমাণ।
সবার দেশ/কেএম




























