আসামে বাঙালি মুসলমানদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদে নাহিদ ইসলামের নিন্দা
ভারতের আসাম রাজ্যে এক হাজার ১০০টির বেশি বাঙালি মুসলমানের ঘরবাড়ি এবং ১০টির বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আসামে কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে বিপুলসংখ্যক বাঙালি মুসলমান পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধ্বংস করা মসজিদগুলোর কয়েকটি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে ছিলো বলে জানা গেছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সরকারি ও বন বিভাগের জমি থেকে কথিত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের যুক্তি দেখালেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের ওই অঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ভারতের স্বাধীনতারও আগে থেকে অনেক পরিবার সেখানে বসবাস করে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা না করে তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের কেউ কেউ আটককেন্দ্রেও রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ভারতে বাঙালি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিপীড়নের একটি উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে, যার সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। গত এক দশকে দেশটিতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ভারতের বাঙালি মুসলমানদের উচ্ছেদ অভিযান, জোরপূর্বক সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার মতে, এসব পদক্ষেপ দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
বিবৃতিতে ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাও উল্লেখ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ওই ঘটনা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের একটি স্থায়ী প্রতীক হয়ে রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে ভারতে মুসলমান, খ্রিষ্টান, শিখ এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না বলে উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মুসলমানদের পরিকল্পিতভাবে নিপীড়নের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ভারতের মুসলমানেরাও ভারতীয়।
সবার দেশ/কেএম




























